হবিগঞ্জে এনসিপির গাড়িবহরে হামলা: ছাত্রদল সভাপতিসহ ১১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা, প্রত্যাহার ১৪৪ ধারা

0
হবিগঞ্জে এনসিপির গাড়িবহরে হামলার পর এনসিপি নেতা সারজিস আলমকে শহরের সোনালী ব্যাংকের ভেতরে অবরুদ্ধ করে রাখেন ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা। ছবি: সংগৃহীত
হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) গাড়িবহরে হামলা, ভাঙচুর ও নেতা-কর্মীদের মারধরের ঘটনায় জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদকে প্রধান আসামি করে ১১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গত বুধবার দিবাগত রাত একটার দিকে হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক তন্ময় তাহের বাদী হয়ে সদর মডেল থানায় মামলাটি করেন। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করার পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদ হোসেন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলায় নাম উল্লেখ করা অন্য আসামিরা হলেন—বৃন্দাবন সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুজ্জামান, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আসিফুল ইসলাম, পৌর ছাত্রদল নেতা মুজাক্কির হোসেন, ছাত্রদল নেতা এম এইচ শিমুল, আল সাইমন, মাহফুজ চৌধুরী, ইশতিয়াক রহমান, শেখ সাব্বির, নাজমূল হোসেন ও রক্সি ইসলাম।

এজাহারে প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে মারধর করে গুরুতর জখম, চুরি ও রাজনৈতিক ক্ষতিসাধনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

এর আগে বুধবার রাত ৯টার দিকে বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) বরাবর লিখিত অভিযোগ জমা দেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা। একই দিন বিকেলে মৌলভীবাজার থেকে হবিগঞ্জে আসার পথে শ্রীমঙ্গল ও বাহুবলের বিভিন্ন স্থানে এনসিপির গাড়িবহর আটকে দেয় পুলিশ।

ফলে শহরে প্রবেশ করতে না পেরে নাহিদ ইসলাম, হাসনাত আবদুল্লাহ, সারজিস আলম, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়ির সামনে অবস্থান নেন এবং রাতে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। পরে সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ মামলাটি নথিভুক্ত করে।

ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, গত মঙ্গলবার বিকেলে হবিগঞ্জে ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি শেষে এনসিপি নেতাদের গাড়িবহরে হামলা ও নেতা-কর্মীদের মারধর করা হয়। হামলার জন্য এনসিপির পক্ষ থেকে বিএনপি ও ছাত্রদলকে দায়ী করা হয়। ওই দিন সন্ধ্যায় এনসিপি শহরে প্রতিবাদ মিছিল বের করলে দুপক্ষের মধ্যে আরেক দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

তবে মামলার মূল আসামি ও জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, এনসিপি নেতাদের উসকানিমূলক বক্তব্যে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল এবং তারা ক্ষুব্ধ জনতার আক্রমণের শিকার হন। এ ঘটনার সঙ্গে ছাত্রদলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই উল্লেখ করে তিনি মামলাটিকে ‘পূর্বপরিকল্পিত’ বলে দাবি করেন।

এদিকে মঙ্গলবার সন্ধ্যার সংঘাতের পর এনসিপি এবং বিএনপি ও ছাত্রদল পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘোষণা করলে আইনশৃঙ্খলার অবনতি এড়াতে বুধবার হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছিলেন জেলা প্রশাসক জি এম সরফরাজ।

পরবর্তীতে পরিবেশ স্বাভাবিক হওয়ায় আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পৌর এলাকায় জারি করা ১৪৪ ধারা তুলে নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বর্তমানে শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে।