সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের দাফন সম্পন্ন, বাঘারপাড়ার তিন গ্রামে শোকের মাতম

0

খাজুরা (যশোর) সংবাদদাতা॥ যশোর সদর উপজেলার লেবুতলা তেঁতুলতলায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের বাড়িতে শোকের মাতম চলছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় বেপরোয়া গতির বাসের চাপায় ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের চালকসহ ৭ যাত্রী নিহত হন। নিহতদের মধ্যে তিন শিশুসহ একই পরিবারের পাঁচজন রয়েছেন। এ ঘটনায় বাঘারপাড়া উপজেলার তিন গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত জহুরপুর ইউনিয়নের যাদবপুর গ্রামের বাবুল মুন্সির স্ত্রী মাহিমা (৪৬), তাদের নাতি ছেলে হাসান ও হোসেন (২), মাহিমা খাতুনের বোন বন্দবিলা ইউনিয়নের সেকেন্দারপুর গ্রামের রাহিমা বেগম মুক্তা (৩২) ও মুক্তার মেয়ে জেবা তাহিরার (৫), ইজিবাইক চালক বন্দবিলা ইউনিয়নের মথুরাপুর গ্রামের ওবায়দুর রহমানের ছেলে আবু মুসা (১৭) এবং ইজিবাইক যাত্রী যশোর সদর উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের সাইদুল ইসলামের ছেলে ইমরানের (২৫) দাফন সম্পন্ন হয়েছে এক বেদনা বিধুর পরিবেশে।
শনিবার  সকালে নিহত জমজ শিশুর বাড়িতে গিয়ে হৃদয় বিদারক দৃশ্য চোখে পড়ে। বাড়ির উঠোনে প্রতিবেশী ছাড়াও আত্মীয়-স্বজনরা ভিড় জমান। কান্নার রোলে বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। আর দুই সন্তানের অকাল মৃত্যু। গুরুতর অবস্থায় স্ত্রী সোনিয়া (২২) ও মেয়ে খাদিজা (৫) হাসপাতালে। এ ঘটনায় নির্বাক হেলাল হোসেন। কাঁদতে কাঁদতে গলার স্বর বের হচ্ছিল না তার। এ সময় উপস্থিত কেউই চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি।
হেলাল হোসেন ঢাকার হেমায়েতপুরে একটি চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় কর্মরত। রাতে খবর পেয়ে শনিবার ভোর তিনটার দিকে বাড়িতে এসে পৌঁছেন। তিনি স্ত্রী ও তিন সন্তান নিয়ে ঢাকাতেই বসবাস করেন। কোরবানি ঈদের আগে সবাই গ্রামে এসেছিলেন। ছুটি শেষে হেলাল হোসেন কর্মস্থলে ফিরে গেলেও স্ত্রী সোনিয়া বেগম (২৭) জমজ ছেলে হাসান- হোসেন ও মেয়ে খাদিজাকে (৫) নিয়ে বাড়িতে ছিলেন। মেয়ে খাদিজার চিকিৎসা করানোর জন্যে ঢাকায় যাননি।
সোনিয়ার চাচা ছোটন হোসেন বলেন, খাদিজার গলায় টিউমার ছিলো। এটি অপারেশনের জন্যে শুক্রবার বিকেলে তারা বাড়ি থেকে ইজিবাইকে যশোরের একটি ক্লিনিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে লেবুতলা এলাকায় বেপরোয়া একটি বাস তাদের চাপা দিয়ে বেশ কিছুদূর সামনে নিয়ে যায়। এতে আমাদের পরিবারের ৫ জন মারা যান। এছাড়া আমার ভাইঝি সোনিয়া ও তার মেয়ে খাদিজা গুরুতর আহত হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় ঘটনার দিন রাতেই সোনিয়াকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। খাদিজা যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এদিকে শনিবার ১০টায় যাদবপুর ঈদগাহে হাসান, হোসেন ও তাদের নানি মাহিমার এবং মাহিমার বোন রাহিমা ও তার মেয়ে জেবার নামাজে জানাজা বেলা ১১টায় সেকেন্দারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর আগে সকাল ৯টায় খাজুরা ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসায় অনুষ্ঠিত হয় ইজিবাইক চালক আবু মুসার জানাজা। পৃথক তিনটি জানাজায় উপস্থিত ছিলেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান, যশোর জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার বিপুল ফারাজী, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক খলিলুর রহমান, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহিত কুমার নাথ, বন্দবিলা ইউপি চেয়ারম্যান সবদুল হোসেন খান, জহুরপুরের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান মিন্টু, বাঘারপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার টিএস আইয়ুব, বাঘারপাড়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মশিয়ার রহমান, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আবু তাহের পাটোয়ারী, পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুল হাই মনা, বন্দবিলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মনিরুজ্জামান তপন, ইসলামী আন্দোলনের নেতা অধ্যক্ষ নাজমুল হুদাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।