অনলাইন বেটিং ও ফিক্সিংয়ে সর্বোচ্চ ৭ বছরের জেল, কোটি টাকা জরিমানা

0
জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে 'জুয়া প্রতিরোধ বিল–২০২৬'। নতুন আইন অনুযায়ী অনলাইন বেটিং ও ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অপরাধে সর্বোচ্চ ৭ বছরের জেল ও ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। তবে আইনের কিছু ধারার অপব্যবহার নিয়ে শঙ্কা জানিয়েছে বিরোধী দল।। প্রতীকী ছবি: এআই/লোকসমাজ
অনলাইন জুয়া, বাজি বা পণ (বেটিং), ম্যাচ ফিক্সিং ও স্পট ফিক্সিংসহ বিভিন্ন ধরনের দূরবর্তী জুয়া প্রতিরোধে কঠোর সাজার বিধান রেখে জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে ‘জুয়া প্রতিরোধ বিল–২০২৬’। আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন, ২০২৬) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি পাসের জন্য সংসদে উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।
নতুন এই আইন পাসের মাধ্যমে ব্রিটিশ আমলের ১৮৬৭ সালের ‘দ্য পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট’ রহিত করা হচ্ছে। পাস হওয়া নতুন বিলে অনলাইন বেটিং ও ম্যাচ বা স্পট ফিক্সিংয়ের মতো গুরুতর অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড এবং ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের কঠোর বিধান রাখা হয়েছে।

নতুন বিলে অনলাইন ও দূরবর্তী জুয়া, বাজি, বাজিকর, ফিক্সিং ও জুয়ার সামগ্রীসহ মোট ২৪ ধরনের বিষয়কে সংজ্ঞায়িত করে অপরাধের প্রকৃতিভেদে ১৪ ধরনের সাজা নির্ধারণ করা হয়েছে।

আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত হলে ২ বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
অনলাইন বা দূরবর্তী জুয়ার অপরাধে ৫ বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা অর্থদণ্ড এবং অনলাইন বেটিংয়ে সম্পৃক্ত হলে সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
এছাড়া ক্রীড়াঙ্গনে ম্যাচ ফিক্সিং ও স্পট ফিক্সিংয়ের জন্য সাজা নির্ধারণ করা হয়েছে সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব ১ কোটি টাকা অর্থদণ্ড।

এদিকে নতুন এই আইনকে সমর্থন করলেও এর কিছু ধারার অপব্যবহার এবং নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিরোধী দল। বিলের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেন, আদালতের অনুমতি ছাড়া পুলিশকে তল্লাশি, জব্দ, জুয়ার স্থান সিলগালা কিংবা ওয়েবসাইট, অ্যাপ ও আইপি অ্যাড্রেস ব্লক করার ক্ষমতা দেওয়া হলে তার অপব্যবহার হতে পারে।

জুয়া প্রতিরোধের নামে সরকারের সমালোচনাকারী নিউজ পোর্টাল বা ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ব্লক করার আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি অতীতের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের উদাহরণ টানেন। জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমানও বিশেষ কমিটির রিপোর্টে ভিন্নমত উল্লেখ করে বলেন, অপব্যবহার ঠেকাতে মালামাল জব্দের পর দ্রুত ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি নেওয়ার বিধান রাখা উচিত ছিল।

বিরোধী দলের আপত্তির জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদে বলেন, বর্তমান যুগে সাইবার স্পেস ও অনলাইনে দ্রুত জুয়া পরিচালিত হয়। এসব ক্ষেত্রে আদালতের দীর্ঘমেয়াদি অনুমতি নিতে গেলে অপরাধের আলামত বা ডিজিটাল তথ্য দ্রুত সরিয়ে ফেলার ঝুঁকি থাকে। তাই অন্য সব আইনের মতো এই বিলেও পুলিশকে তাৎক্ষণিক তল্লাশি ও জব্দের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

বিলটি পাসের পর পয়েন্ট অব অর্ডারে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, তাঁরা আইনের পক্ষে থাকলেও সংশোধনীগুলো গ্রহণ করা হলে এটি আরও গ্রহণযোগ্য হতো। ভবিষ্যতে এই আইনের যাতে কোনো রাজনৈতিক বা অন্যায্য অপব্যবহার না হয়, সেদিকে সরকারকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।