আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল: চট্টগ্রাম-৪ আসনে এখন কী হবে, শুরু হয়েছে আইনি বিশ্লেষণ

0
বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরী ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকী।। ফাইল ছবি: সংগৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতার বৈধতা নিয়ে দায়ের করা আপিল মঞ্জুর করে আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন, ২০২৬) রায় দিয়েছেন আপিল বিভাগ। একই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকীর করা আপিলের প্রেক্ষিতে আদালত এই সিদ্ধান্ত জানান।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে আসলাম চৌধুরী বেসরকারিভাবে সর্বোচ্চ ভোট পেলেও আদালতের সিদ্ধান্তে তাঁর ফলাফল প্রকাশ স্থগিত ছিল। আজকের এই রায়ের পর আসনটিতে নতুন করে নির্বাচন হবে, নাকি ভোটে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্থান পাওয়া প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে—তা নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি মহলে নতুন সমীকরণ শুরু হয়েছে।

রায়ের পর এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে জামায়াত প্রার্থীর আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, “আসলাম চৌধুরী ঋণখেলাপি হিসেবে এই নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন এবং আদালতের রায়ের মাধ্যমে নির্বাচনে তাঁর এই অংশগ্রহণ অবৈধ ঘোষিত হয়েছে। অর্থাৎ তিনি এখন অযোগ্য প্রার্থী হিসেবে গণ্য হলেন।”

তিনি আরও যোগ করেন, সাধারণত কোনো আসনে প্রথম হওয়া ব্যক্তি অযোগ্য ঘোষিত হলে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া প্রার্থীকে নির্বাচিত ঘোষণা করার সাধারণ নিয়ম রয়েছে। তবে এই আসনের ক্ষেত্রে আপিল বিভাগ বিশেষ কোনো নির্দেশনা দিয়েছেন কি না, তা পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হলেই কেবল বিস্তারিত জানা যাবে।
আইনজীবীদের তথ্যমতে, এই মামলায় মূল আইনি বিতর্ক ছিল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার নির্দিষ্ট দিনে আসলাম চৌধুরীর ঋণখেলাপির স্ট্যাটাসটি আসলে কী ছিল।

এদিকে, চট্টগ্রাম-৪ আসনে যদি পুনরায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তবে তাতে বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর অংশ নিতে কোনো আইনগত বাধা থাকবে না বলে মনে করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

আপিল বিভাগের রায়ের পর নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “একজন ব্যক্তির একটি নির্দিষ্ট সময়ের অযোগ্যতা তো সারা জীবন থাকবে না। পূর্ববর্তী নির্বাচনে যে কারণে আপিলটি মঞ্জুর হলো, তাঁর কারণে তিনি হয়তো সেই নির্বাচনের ফলাফলটি ভোগ করতে পারবেন না। তবে পরবর্তী নির্বাচনের ক্ষেত্রে তিনি যদি সেই অযোগ্যতা কাটিয়ে যোগ্য হন, তবে তাঁর প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে আইনি বাধা থাকার কথা না।”
উল্লেখ্য, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে এই আসনে জামায়াতের আনোয়ার সিদ্দিকী দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছিলেন।