স্বাস্থ্য বিভাগে স্বেচ্ছাসেবক জনবল নিয়োগে এনজিওর বিরুদ্ধে অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ এডুকেশন এন্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (হিডো) বিরুদ্ধে যশোর জেলা স্বাস্থ্য বিভাগে জনবল নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে তাদের নিয়োগের কথা বলা হলেও মৌখিকভাবে সরকারি চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে আত্মরক্ষার কৌশল হিসেবে ৭টি শর্ত দিয়ে ৩শ টাকার স্ট্যাম্পে লেখা অঙ্গীকার নামায় স্বাক্ষর নেয়া হচ্ছে। সূত্র জানিয়েছেন, সিভিল সার্জন অফিস স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন পদে ভলেন্টিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে সেবা প্রদানের জন্যে জনবল নিয়োগে হিডো ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চিঠি পাঠায়। যশোরের সিভিল সার্জন ২শ ৯৩টি পদে জনবল নিয়োগের চাহিদাপত্র প্রেরণ করেন। গত রোববার ১শ ৩৭ জন চাকরি পাওয়ার জন্যে সিভিল সার্জন অফিসে এসে আবেদন পত্র জমা দেন। স্বেচ্ছা শ্রমের ভিত্তিতে তাদের নিয়োগ দেয়ার কথা থাকলেও ওই সংস্থার পক্ষ থেকে ‘ভবিষ্যতে সরকারি চাকরি হবে’ মর্মে নিশ্চয়তা নিয়ে উৎকোচ নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। আর টাকা নেয়ার ঘটনা যাতে প্রমাণিত না হয় সেজন্যে ৩শ টাকা মূল্যের স্ট্যাম্পে ৭টি শর্ত লেখা অঙ্গীকার নামায় স্বাক্ষর নেয়া হচ্ছে। গত ১২ জানুয়ারি তাদের কাছ থেকে অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর নেয়া হয়েছে।  অঙ্গীকারনামার শর্তগুলো হচ্ছে ১. সিভিল সার্জন যশোরের নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে হিউম্যান এডুকেশন এন্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (হিডো) কর্তৃক নিয়োগের জন্যে আমি কাউকে কোন টাকা প্রদান করিনি। ২. এই নিয়োগে সরকারি কোন দায়বদ্ধতা নেই। অর্থাৎ চাকরি সরকারিকরণের কোন সুযোগ নেই। ৩. হিউম্যান এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (হিডো) বেতন ভাতা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে সিভিল সার্জন অফিস কোন দায়দায়িত্ব নেবে না।
৪. হিউম্যান এডুকেশন এন্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (হিডো) কর্তৃক নির্ধারিত নিয়মানুযায়ী বেতন ভাতা পাবেন।
৫. এই নিয়োগে সরকারি বেতন ভাতাদি অথবা সিভিল সার্জন/ ইউএইচ এন্ডএফপিও কর্তৃক প্রদান করা হবে না।
৬. হিডো কর্তৃক নিয়োগকৃত কর্মী দ্বারা কোন সরকারি মালামাল বা সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হলে তার দায়িত্ব তাকে বহন করতে হবে।
৭. নিয়োগকৃত কর্মীর আচরণজনিত কোন অপ্রীতিকর ঘটনার জন্যে কোন প্রকার কৈফিয়ত। আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ ব্যতিরেকে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে চাকরিচ্যুত করা হবে।  সংস্থা কর্তৃক চাকরি প্রার্থীদের কাছ থেকে এ ধরনের অঙ্গীকার নামায় স্বাক্ষর নেয়া নিয়ে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। অনেক বলছেন, এর ভেতর এমন শর্ত রয়েছে যা মানবাধিকারের পরিপন্থি। বিষয়টি নিয়ে যশোরের সিভিল সার্জন ডা. বিপ্লব কান্তি বিশ্বাসের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ নিয়োগ আমাদের না। আমাদের কোন দায়বদ্ধতা নেই। স্ব্স্থ্যা বিভাগ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ভলেন্টিয়ার্স সার্ভিসের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা দেয়ার জন্যে জনবল নিয়োগ করছে। এ দায় তাদের। তবে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ ব্যাপারে ‘হিডোর’ নির্বাহী পরিচালক মো. ফারুক আহমেদের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি কারো কাছ থেকে কোন টাকা নেয়নি। কেউ যদি বলতে পারে আমি টাকা নিয়েছি তাহলে তার মুখোমুখি হবো। অবশ্য আমার সংস্থা এখনো সরকারি অনুমোদন পায়নি। আমার নামে ফয়েজ ও ইমরুল নামে দু’জন দু’নম্বরি করছে। লোকজনের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছে বলে তিনি শুনেছেন। দু’জনই চিটার। বিভিন্ন জায়গা থেকে তারা এভাবে চিটারি করে খায় বলে জানিয়েছেন ফারুক আহমেদ। নিয়োগপত্রে ফয়েজ হোসেনের স্বাক্ষর রয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসব আমি জানি না।