স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পেছনে টাকা নিয়ে ঘুরিনি: আদ্-দ্বীনের নির্বাহী পরিচালক

0
লাইসেন্স বাতিল করার পর হাসপাতালটির বিভিন্ন সংস্কারের বিষয়ে জানাতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে আদ্–দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।। ছবি: সংগৃহীত

ছয় নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালের লাইসেন্স বাঁচাতে কোটি কোটি টাকা নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পেছনে ঘোরার যে অভিযোগ উঠেছে, তা সম্পূর্ণ অসত্য বলে দাবি করেছেন আদ্–দ্বীন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডা. শেখ মহিউদ্দিন। আজ সোমবার (১৫ জুন, ২০২৬) বিকেলে রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালের নিচতলায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর করা অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে তিনি বলেন, ‘আমি ওনার (স্বাস্থ্যমন্ত্রী) পেছনে টাকা নিয়ে ঘুরিনি। ওনাকেই প্রমাণ দেখাতে বলুন। হি হ্যাজ টু প্রুভ ইট।’ উল্লেখ্য, গত শনিবার নরসিংদীতে এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন দাবি করেছিলেন, আদ্-দ্বীন হাসপাতাল লাইসেন্স বাঁচাতে তাঁর পেছনে কোটি কোটি টাকা নিয়ে ঘুরেছে।

ছয় নবজাতকের মৃত্যুর জেরে সরকার কর্তৃক হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করার পর উদ্ভূত পরিস্থিতি ও বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতি জানাতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। লাইসেন্স বাতিলের কঠোর সরকারি সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে ডা. শেখ মহিউদ্দিন বলেন, ‘হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল হয়েছে, এটা আমার হাসপাতালের ফাঁসি হয়ে গেছে। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তকে আমরা সম্মান জানাই। স্বাস্থ্যমন্ত্রী মহোদয় বলেছেন যে এটা দিয়ে অন্য বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজকে শিক্ষা দিচ্ছেন। আলহামদুলিল্লাহ, আমার হাসপাতালকে শিক্ষা দিয়ে যদি দেশের অন্য হাসপাতালগুলো পরিবর্তিত ও সংশোধিত হয়, তবে এটা নিয়ে আমার কোনো কষ্ট নেই।’

সংবাদ সম্মেলনে ডা. মহিউদ্দিন জানান, লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে না গিয়ে নিয়মানুযায়ী ৩০ দিনের মেয়াদের মধ্যে আগামীকাল মঙ্গলবারই সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক আপিল আবেদন জমা দেওয়া হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পরিদর্শন প্রতিবেদনে যেসব ত্রুটি ও ঘাটতির কথা উল্লেখ করেছে, সেগুলোর অধিকাংশ আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সমাধান করা সম্ভব হবে। এছাড়া, হাসপাতাল ভবনের ওপরের তলায় থাকা বিতর্কিত বেকারিটির আইনি সমস্যা না থাকলেও সরকারের আপত্তির কারণে সেটি আপাতত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তীতে তা অন্য স্থানে স্থানান্তর করা হবে।

হাসপাতালে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রোগীদের বিষয়ে নির্বাহী পরিচালক জানান, নতুন কোনো রোগী ভর্তি নেওয়া হচ্ছে না। তবে সংকটাপন্ন ও নবজাতক রোগীদের তাৎক্ষণিক স্থানান্তর ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় বর্তমানে আইসিইউতে ৫ জন এবং এনআইসিইউতে ৩৬ জনসহ বেশ কিছু রোগী এখনো ভর্তি আছেন। শিশুমৃত্যুর ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক ও বেদনাদায়ক উল্লেখ করে ডা. মহিউদ্দিন দাবি করেন, তদন্ত প্রতিবেদনে সুনির্দিষ্ট কোনো মৃত্যুর কারণ উল্লেখ না করে ভেন্টিলেশন ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা নিয়ে উদ্বেগের কথা বলা হয়েছে। তাই এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানের জন্য রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে আরও বিস্তৃত ও নিবিড় ফরেনসিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা হওয়া প্রয়োজন।