হবিগঞ্জে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলমসহ ৫০ জনের বিরুদ্ধে ছাত্রদলের মামলা

0
এনসিপির কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী (বামে) ও উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, যাদের বিরুদ্ধে হবিগঞ্জে মামলা হয়েছে।। ছবি: সংগৃহীত
হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ ৫০ জনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, হামলা, ভাঙচুর ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে মামলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাতে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন রুকন বাদী হয়ে এই মামলা দায়ের করেন।

মামলায় এনসিপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

নামোল্লিখিত অন্য আসামিরা হলেন—হবিগঞ্জ জেলা জাতীয় শক্তির আহ্বায়ক নুর আলম চৌধুরী, জেলা কমিটির সদস্য ফখরুল জাকির, আবদুল হাই কামাল, রুহাম গাজী, সদস্যসচিব মাহবুবুল বারী চৌধুরী মুবিন, কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক নাহিদ উদ্দিন তারেক, জেলা আহ্বায়ক আবু হেনা মোস্তফা কামাল এবং জেলা কমিটির সদস্য ওয়াদুদ মাহমুদ চৌধুরী।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ জুলাই বিকেলে হবিগঞ্জ পৌরসভার কোর্ট মসজিদ এলাকায় এনসিপি ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়।

বাদীর দাবি, জুলাই আন্দোলনের শহীদ রিপন শীলের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও শোকসভায় অংশ নিতে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা সেখানে জড়ো হয়েছিলেন। এ সময় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলমের নেতৃত্বে দেশি অস্ত্র, রড, রামদা, বল্লম ও ইট নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, হামলায় জেলা ছাত্রদলের নেতা মাহফুজ চৌধুরী ও মোজাক্কির হোসেন ইমনসহ কয়েকজন মারাত্মক আহত হন। এ ছাড়া সংঘর্ষ চলাকালে বাদীসহ পাঁচজনের মুঠোফোন এবং ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা চলে যান এবং আহত ব্যক্তিদের হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে একই সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল এনসিপি। ওই মামলায় জেলা ছাত্রদলের সভাপতিসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ জনকে আসামি করা হয়েছিল।

এনসিপির দাবি ছিল, তাঁদের পদযাত্রা ও পথসভা শেষে সার্কিট হাউসে ফেরার পথে ছাত্রদলের হামলায় সারজিস আলমসহ অন্তত ১৫ জন নেতা-কর্মী আহত হন এবং তাঁদের একজন চোখের দৃষ্টিশক্তি হারান।

হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হক জানান, ছাত্রদলের পক্ষ থেকে দেওয়া অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।