স্বাধীনতার রণাঙ্গনের বীর যোদ্ধা আলী হোসেন মনির জীবনাবসান

আলী হোসেন মনি ছিলেন একজন সংগ্রামী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে প্রশাসনিক শূন্যতার সময় তিনি যশোর জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করেন বলে জানা যায়।

0

স্টাফ রিপোর্টার, লোকসমাজ : দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে যশোরের বীর যোদ্ধা আলী হোসেন মনি ইন্তিকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তিনি মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশ লিবারেশন ফ্রন্টের (বিএলএফ) যশোরের অধিনায়ক ছিলেন।
আজ শুক্রবার সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় আশিঊর্ধ্ব বয়সের আলী হোসেন মনি মৃত্যুবরণ করেন। বাধ্যক্যজনিত কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন।
পরিবার ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তিনি হৃদরোগ, অ্যাকিউট কিডনি জটিলতা এবং বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন। গত সোমবার (৮ জুন) তিনি যশোর শহরের ষষ্ঠীতলার বাসা থেকে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) ভর্তি হন। অবস্থার অবনতি হলে মঙ্গলবার রাতে তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।
এর আগে তিনি ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এসময় যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য বিদ্যুৎ জ¦ালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত তাঁর পাশে অবস্থান নেন। চিকিৎসার একপর্যায়ে গত ৭ জুন তাকে যশোরে নিজ বাসায় আনা হয়। তবে ৮ জুন আবারও অসুস্থ হয়ে পড়লে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী হোসেন মনি মৃত্যুকালে কানাডা প্রবাসী একমাত্র কন্যা ফারজানা আলীসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী হোসেন মনির ইন্তেকাল
বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী হোসেন মনির ইন্তেকালের খবর পেয়ে তার বাড়ি যান বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম- লোকসমাজ

মৃত্যুর পর তাঁর মরদেহ ষষ্ঠীতলা রেলবাজার এলাকার নিজ বাসভবনে নেওয়া হয়। সেখানে রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ভিড় করেন।
মৃত্যুর খবর পেয়ে দ্রুত মরহুমের বাসভবনে যান বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক অধ্যাপক নার্গিস বেগম। তিনি মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
আলী হোসেন মনি ছিলেন একজন সংগ্রামী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে প্রশাসনিক শূন্যতার সময় তিনি যশোর জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করেন বলে জানা যায়।
তিনি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের বৃহত্তর যশোর জেলা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহ-সভাপতি ছিলেন। ১৯৬২ সালে ছাত্রলীগের গোপন সংগঠন স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ (নিউক্লিয়াস)-এর কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
১৯৭২ সালে জাসদ গঠনের পর তিনি সংগঠনটির অন্যতম নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
শুক্রবার বাদ আসর যশোর ঈদগাহ ময়দানে মরহুমকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হবে। পরে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে এবং জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হবে।