সুন্দরবনে ৫ জাহাজে ডাকাতির চেষ্টা, একটিতে গুলি ও লুটপাট

একটি কার্গো জাহাজে উঠে ১৫-২০ রাউন্ড গুলি; নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন লুট

0
সুন্দরবনে ৫ জাহাজে ডাকাতির চেষ্টা

বাগেরহাট সংবাদদাতা, লোকসমাজ : সুন্দরবনের অভ্যন্তরে ভারতগামী পাঁচটি নৌযানে ডাকাতির চেষ্টা চালিয়েছে বনদস্যুরা। এর মধ্যে এমভি আব্দুল হাকিম-১ নামের একটি কার্গো জাহাজে উঠে গুলি চালিয়ে লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৬ জুন) সন্ধ্যায় সুন্দরবনের শিবসা নদী পার হয়ে শিংয়েরনালা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

তবে ঘটনার প্রায় ২৪ ঘণ্টা পরও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ পায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জানা গেছে, বাংলাদেশ-ভারত নৌ-প্রোটোকলের আওতায় ঢাকা থেকে মোংলা বন্দর হয়ে সুন্দরবনের শাকবাড়িয়া, আড়ুয়া, শিবসাসহ বিভিন্ন নৌপথ ব্যবহার করে জাহাজগুলো ভারতে যাতায়াত করে। আক্রান্ত নৌযানগুলো হলো— এমভি খারেহেরা, এমভি বয়রাতলা, এমভি আরিয়ান সালাম, এমভি আ. হাকিম এবং এমভি আব্দুল হাকিম-১।

sundarbans-cargo-vessel-robbery
আক্রান্ত কার্গো জাহাজে গুলির চিহ্ন- লোকসমাজ

বাংলাদেশ-ভারত নৌ-প্রোটোকল কমিটির কার্যকরী সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, জাহাজগুলো খালি অবস্থায় ভারতে ফ্লাই অ্যাশ (সিমেন্ট তৈরির কাঁচামাল) আনতে যাচ্ছিল। শনিবার দুপুরে মোংলা বন্দর এলাকা ত্যাগ করার পর শেখবাড়িয়া অতিক্রম করে শিংয়েরনালা এলাকায় পৌঁছালে বনদস্যুরা তাদের ধাওয়া করে।

তিনি বলেন, সামনের চারটি জাহাজ দ্রুত এগিয়ে গেলেও বহরের সর্বশেষে থাকা এমভি আব্দুল হাকিম-১ জাহাজে উঠে পড়ে ডাকাতরা। জাহাজে উঠেই তারা নাবিক ও কর্মীদের মারধর করে এবং পরে মাস্টার ব্রিজের দিকে গিয়ে গুলি চালায়।

এমভি আব্দুল হাকিম-১-এর মাস্টার মো. নুর নবীর বরাত দিয়ে তিনি আরও জানান, সন্ধ্যা ৭টা থেকে সাড়ে ৭টার মধ্যে ট্রলারযোগে আসা ১০ থেকে ১৫ জন অস্ত্রধারী ডাকাত জাহাজে ওঠে। তারা লাইফ জ্যাকেট পরিহিত ছিল। ডাকাতরা অস্ত্রের মুখে কয়েকজন কর্মীকে জিম্মি করে বেঁধে ফেলে এবং মারধর করে। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে মাস্টার ব্রিজের সব প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়।

মাস্টার কেবিনে ঢুকতে ব্যর্থ হয়ে ডাকাতরা দরজার দিকে ১৫ থেকে ২০ রাউন্ড শটগানের গুলি ছোড়ে। প্রায় ১৫ মিনিট জাহাজে অবস্থান করে তারা কর্মীদের মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও অন্যান্য মালামাল লুট করে পালিয়ে যায়।

নৌযান শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সমাজকল্যাণ সম্পাদক এবং বাংলাদেশ লঞ্চ লেবার অ্যাসোসিয়েশনের মোংলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, এ ধরনের ঘটনা চলতে থাকলে বাংলাদেশ-ভারত নৌপথে জাহাজ চলাচল হুমকির মুখে পড়বে। নৌপথে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, জোয়ার-ভাটার সময়সূচি মেনে জাহাজ চলাচল করতে হয়। ফলে দিন বা রাত— যেকোনো সময় নদীপথে চলাচল করতে হয়। নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে এ রুটে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে।

মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুর রহমান বলেন, তিনি ঘটনাটি শুনেছেন। তবে এ বিষয়ে থানায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। খুলনার দাকোপ ও কয়রা থানার পক্ষ থেকেও এমন কোনো তথ্য পাওয়ার কথা জানানো হয়নি।