যশোরের ঘোপে অনলাইন জুয়ার আস্তানা : তিন দফা অভিযানে আটক একাধিক সদস্য, উদ্বিগ্ন স্থানীয়রা

0
ছবি: এআই জেনারেট।

মীর মঈন হোসেন মুসা ॥ যশোর শহরের ঘোপ এলাকা ধীরে ধীরে অনলাইন জুয়া পরিচালনাকারী চক্রের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এলাকার বিভিন্ন ভবন ও ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে একাধিক চক্র গোপনে অনলাইন জুয়ার কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

ইতোমধ্যে তিন দফা পৃথক অভিযানে ঘোপ এলাকার তিনটি বাড়ি থেকে বেশ কয়েকজনকে আটক করেছে পুলিশ।

আটক ব্যক্তিদের অধিকাংশই যশোরের বাইরের জেলার বাসিন্দা। তাদের কাছ থেকে অনলাইন জুয়ার কাজে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, সিমকার্ড ও অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

ঘোপ এলাকায় ধারাবাহিকভাবে অনলাইন জুয়া পরিচালনাকারীদের আটক হওয়ার ঘটনায় একদিকে পুলিশকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন স্থানীয়রা, অন্যদিকে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে। তাদের আশঙ্কা, এসব চক্রের কারণে সমাজে অপরাধ ও আর্থিক প্রতারণা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বেশ কয়েক মাস আগে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি দল ঘোপ বউবাজার এলাকার একটি তিনতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে কয়েকজন অনলাইন জুয়া পরিচালনাকারীকে আটক করে। পরে জানা যায়, তারা প্রকৃত পরিচয় গোপন করে ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে সেখানে অবস্থান করছিল এবং বিভিন্ন অনলাইন অ্যাপের মাধ্যমে জুয়ার কার্যক্রম পরিচালনা করছিল। এ ঘটনায় সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি জনসমক্ষে আসে।

এরপর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যশোর ডিবি পুলিশ ঘোপ সেন্ট্রাল রোড এলাকার পপি কটেজ নামের একটি পাঁচতলা ভবনের তৃতীয় তলার ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে অনলাইন জুয়া পরিচালনাকারী চক্রের ছয় সদস্যকে আটক করে। এ সময় ১০টি মোবাইল ফোন ও জুয়ার বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। আটক ব্যক্তিদের বাড়ি পিরোজপুর, বাগেরহাট ও যশোর জেলার বিভিন্ন এলাকায়।

সর্বশেষ গত ৭ সেপ্টেম্বর ঘোপ নওয়াপাড়া রোডের একটি ভাড়া করা ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে অনলাইন জুয়া পরিচালনাকারী চক্রের চার সদস্যকে আটক করে পুলিশ। উপশহর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই আব্দুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে পরিচালিত ওই অভিযানে ১০টি মোবাইল ফোন, বিভিন্ন কোম্পানির ৫৭টি সিমকার্ড এবং নগদ ৫৭ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। আটক চারজনের মধ্যে দুইজন নারীও রয়েছেন।

পুলিশ সূত্র জানায়, ঘোপ এলাকায় পরিচয় গোপন করে অনলাইন জুয়া পরিচালনাকারী একাধিক চক্র সক্রিয় রয়েছে বলে তারা তথ্য পেয়েছে। এসব চক্রের বিরুদ্ধে নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঘোপ এলাকায় একের পর এক অনলাইন জুয়া চক্রের সদস্য আটক হওয়ার ঘটনায় তারা উদ্বিগ্ন। তাদের মতে, এসব চক্রের খপ্পরে পড়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অনেক পরিবারে জুয়া আসক্তির কারণে অশান্তি ও সামাজিক সংকট তৈরি হচ্ছে।

জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. মিরাজুল ইসলাম বলেন, যশোর ও বেনাপোল এলাকায় অনলাইন জুয়া পরিচালনাকারী একাধিক চক্রের তৎপরতার তথ্য পুলিশের কাছে রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। গত এক মাসে যশোর ও বেনাপোলে অন্তত ১০টি অভিযানে জুয়ার সঙ্গে জড়িত বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে, যশোর শহরের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার চায়ের দোকানে আড্ডার আড়ালে গভীর রাত পর্যন্ত অনলাইনে জুয়া খেলার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, রাত গভীর পর্যন্ত খোলা থাকা এসব দোকানে নিয়মিত অভিযান চালানো হলে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত আরও ব্যক্তিদের শনাক্ত ও আটক করা সম্ভব হবে।