সির সঙ্গে ‘দারুণ বৈঠক’ হয়েছে, জানালেন ট্রাম্প

বৈঠকে দুই নেতা নিজেদের বাণিজ্য, প্রযুক্তি, তাইওয়ান ও ইরান নিয়ে আলোচনা করেন।

0
লালগালিচায় হাঁটছেন (বাঁ থেকে) চীনের ফার্স্ট লেডি পেং লিউয়ান, চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে ।। ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের মধ্যে ওয়াশিংটন ডিসির হোয়াইট হাউসে এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এই বৈঠকটিকে ‘দারুণ বৈঠক’ বলে অভিহিত করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

বৈঠকে দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্য, প্রযুক্তি খাত, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), তাইওয়ানের স্বাধীনতা এবং চলমান ইরান যুদ্ধসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ভূ-রাজনৈতিক বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন দুই বিশ্বনেতা।

চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈঠকে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ‘তাইওয়ানের স্বাধীনতা’র বিরোধিতা করার আহ্বান জানান। তাইওয়ান ইস্যুতে সতর্কতার সঙ্গে অবস্থান নেওয়ার প্রতি তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, চীনের ভূখণ্ডগত অখণ্ডতার বিষয়ে বেইজিংয়ের অবস্থান সম্পূর্ণ স্পষ্ট।

উল্লেখ্য, তাইওয়ানকে চীন নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে দাবি করে আসছে, অন্যদিকে ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরে তাইওয়ানের প্রতি সমর্থন প্রদান এবং বেইজিংয়ের সঙ্গে কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার নীতি অনুসরণ করে আসছে।

বৈঠকের আগে গত বুধবার সন্ধ্যায় চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ও ফার্স্ট লেডি পেং লিউয়ান তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছান। মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে তাঁদের সরাসরি স্বাগত জানান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প।

দীর্ঘ ১১ বছর পর কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই সামরিক ঘাঁটিতে গিয়ে সরাসরি কোনো বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানকে অভ্যর্থনা জানালেন; এর আগে ২০১৫ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা পোপ ফ্রান্সিসকে সেখানে স্বাগত জানিয়েছিলেন। পরবর্তীতে হোয়াইট হাউসের ইস্ট রুমে রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে দুই নেতা মিলিত হন।

বিশ্বের শীর্ষ দুই অর্থনৈতিক শক্তির মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে ১১ মাস আগে যে চুক্তি হয়েছিল, তা বর্ধিত করার বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানান, চীনের উপপ্রধানমন্ত্রী হে লিফেংয়ের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে ট্রেড ট্রুস বা সাময়িক বাণিজ্য চুক্তির মেয়াদ আগামী ২০২৭ সালের ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানোর বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়েছে। বৈঠকে নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের ওপর শুল্ক কমানো, কৃষিপণ্য কেনাবেচা, বাণিজ্যিক বাধা দূর করা এবং চীনের পক্ষ থেকে ২০০টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার আগের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পায়।

বৈঠকে আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি। জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা ও সামরিক শক্তির ওপর এআই প্রযুক্তির প্রভাব এবং এর সম্ভাব্য অপব্যবহার নিয়ে ওয়াশিংটন ও বেইজিং উভয় পক্ষই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং উল্লেখ করেন, এআই বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের ক্ষেত্রে বিশ্বের শীর্ষ দুই দেশ হিসেবে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক দায়িত্ব রয়েছে। তিনি এআই-কে মানুষের কল্যাণে ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি এর পুরো বিকাশ যেন মানুষের নিয়ন্ত্রণেই থাকে, সেদিকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। বিপরীতে ট্রাম্প এআই-কে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এই খাতের নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়তি কোনো নতুন বিধিনিষেধের প্রয়োজন নেই।

ইরান পরিস্থিতি ও মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতেও বৈঠকে দীর্ঘ আলোচনা হয়। সিনহুয়া জানিয়েছে, গত জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছিল, তার শর্তে যুক্তরাষ্ট্রকে ফিরে আসার তাগিদ দিয়েছেন সি চিন পিং। উক্ত সমঝোতায় যুদ্ধ বন্ধ, কৌশলগত হরমুজ প্রণালি মুক্ত রাখা এবং মার্কিন নৌ অবরোধ তুলে নেওয়ার বিধান ছিল। গত ১৭ জুন স্বাক্ষরিত চুক্তির পর পুনরায় পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হলেও জাতিসংঘের চলতি অধিবেশনের ফাঁকে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।