সাভারে এসবি’র এসআই আলতাফকে পিটিয়ে হত্যা

0
ঢাকার সাভারের আমিনবাজারে অটোরিকশা পার্কিং নিয়ে তুচ্ছ দ্বন্দ্বে স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) এক উপ-পরিদর্শককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার সাভারের আমিনবাজার বড়দেশী এলাকায় অটোরিকশা চালকদের সঙ্গে তুচ্ছ তর্কাতর্কির জেরে স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আলতাফ হোসেনকে (৫৮) পিটিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। এই হামলায় তাঁর ছেলে আরিফ গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে সাভারের আমিনবাজারের বড়দেশী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সাভার মডেল থানার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এসপি) জাহাঙ্গীর আলম।

নিহত আলতাফ হোসেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অধীনে স্পেশাল ব্রাঞ্চে (এসবি) কর্মরত ছিলেন। তাঁর বিপি নম্বর-৬৮৮৬০৫০৬০০ ও এসবি আইডি নম্বর-৬২৬৮। সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার বাসিন্দা জুবায়ের আলী শেখের ছেলে আলতাফ হোসেন স্ত্রী শিউলি পারভিন ও ছেলেকে নিয়ে আমিনবাজারের বড়দেশী মদিনাসিটি এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। বড়দেশীতে তাঁর পাঁচ শতক জমিতে একটি ছোট টিনশেড কারখানা রয়েছে, যেখানে স্বল্প পরিসরে ট্রাউজার ও গেঞ্জি তৈরি করা হতো।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত ১০টার পর ওই পোশাক কারখানার সামনে মালামাল বহনকারী এক অজ্ঞাতনামা অটোচালকের সঙ্গে গাড়ি পার্কিং নিয়ে আলতাফ হোসেনের তর্কাতর্কি হয়। স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কালাম আজাদ জানান, সেখানে গাড়ি চলাচলের পর্যাপ্ত জায়গা থাকা সত্ত্বেও তুচ্ছ বিষয় নিয়ে এই তর্কের সৃষ্টি হয়।

তর্কাতর্কির জেরে গভীর রাতে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল নিয়ে ওই অটোচালক কারখানায় হামলা ও ভাঙচুর চালায়। আলতাফ হোসেন ও তাঁর ছেলে আরিফ বাধা দিতে গেলে হামলাকারীরা তাঁদের লাঠিসোঁটা দিয়ে উপর্যুপরি মারধর করে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে প্রতিবেশীরা গুরুতর আহত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে রাতেই আলতাফ হোসেন মারা যান। তাঁর ছেলে আরিফ বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন।

ঘটনাসূত্রে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম জানান, খবর পেয়ে যৌথ অভিযান চালিয়ে রবিবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে বড়দেশী এলাকা থেকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত জহুরুল ইসলাম (৩০) নামের এক যুবককে আটক করা হয়েছে। আটক জহুরুল মোসলেম উদ্দিন ও রুপবানুর ছেলে। তাঁকে সাভার মডেল থানা হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি, তবে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান।