সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে গৃহবধূ হত্যা স্বামী শাশুড়ি ও ননদের নামে মামলা দায়ের

0

 

সাতক্ষীরা সংবাদদাতা ॥ সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার সোনাতলা গ্রামের গৃহবধূ অনার্স পড়ুয়া কলেজ ছাত্রী শাহীনা রাসুল হাসিকে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন চালিয়ে হত্যার অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে। নিহতের মা ফাতেমা খাতুন বাদী হয়ে শুক্রবার সকালে জামাতা মাসুদুর রহমান হাসান, নিহতের ননদ স্কুল শিক্ষিকা মুর্শিদা খানম ও নিহতের শাশুড়ি মনোয়ারা খাতুনকে আসামি করে এ মামলাটি দায়ের করেন। পুলিশ নিহতের স্বামী মাসুদুর রহমান হাসানকে গ্রেপ্তার করে গতকাল দুপুরে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠিয়েছেন।  বৃহস্পতিবার দুপুরে হাসিকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর আত্মহত্যা বলে প্রচার করা হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়।
নিহত শাহীনা রাসুল হাসি (২০) কালিগঞ্জ উপজেলার সোনাতলা গ্রামের মাসুদুর রহমান হাসানের স্ত্রী ও একই উপজেলার চাঁচাই গ্রামের আমিরুল ইসলামের মেয়ে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, দুই বছর আগে চাঁচাই গ্রামের আমিরুল ইসলামের মেয়ে কালিগঞ্জ রোকেয়া মুনসুর ডিগ্রি কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্রী শাহীনা রাসুল হাসির সঙ্গে সোনাতলা গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মোবারক আলীর ছেলে মাসুদুর রহমান হাসানের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে হাসান ও তার পরিবারের সদস্যরা যৌতুকের দাবিতে হাসিকে নির্যাতন করতো। সর্বশেষ হাসান ও তার পরিবারের সদস্যরা গত বৃহষ্পতিবার সকালে হাসিকে বাপের বাড়ি থেকে পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে আসতে বলে। টাকা আনতে অপারগতা প্রকাশ করায় দুপুরে তাকে নির্যাতনের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে লাশের গলায় ওড়না পেঁচিয়ে গোসলখানার আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে দিয়ে আত্মহত্যার প্রচার দেওয়া হয়।
তবে, চাঁচাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও বিষ্ণুপুর গ্রামের মনিরুল ইসলামের স্ত্রী মুর্শিদা খানম জানান, তাকে ফাঁসানোর জন্যে পরিকল্পিতভাবে এ মামলায় জড়ানো হয়েছে।
কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হালিমুর রহমান বাবু জানান, কলেজ ছাত্রী শাহীনা রাসুল হাসিকে হত্যার অভিযোগে তার মা ফতেমা খাতুন বাদী হয়ে নিহতের স্বামী, ননদ ও শাশুড়িকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ১১(খ) শুক্রবার থানায় মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেপ্তারকৃত মাসুদুর রহমান হাসানকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।