‘সমর্থক ভাইয়ারা না থাকলে ঘটনা অন্য রকম হতো’ — পুলিশের মারধর ও গলা চেপে ধরার বর্ণনা দিলেন ক্রিকেটার নাঈম

0
চট্টগ্রাম নগরের বাসায় সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার বর্ণনা দেন জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসান। আজ বিকেলে বহদ্দারহাটের ফরিদারপাড়া এলাকায় ।। ছবি: সংগৃহীত

‘যখন সিএনজি অটোরিকশায় তুলে ফেলে, তখন খুব ভয় পেয়েছিলাম। সেখানে জড়ো হওয়া ১০০ থেকে ১২০ জনের মতো সমর্থক ভাইয়ারা না থাকলে ঘটনাটি অন্য রকম হতো।’ চট্টগ্রাম নগরের বহদ্দারহাটের ফরিদাপাড়ায় নিজ বাসায় আজ শনিবার বিকেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গত শুক্রবার রাতের ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে এ কথা বলেন জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসান।

ঘটনার বিবরণে নাঈম জানান, ঢাকায় প্রিমিয়ার লিগের খেলা শেষে রাতের ফ্লাইটে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে নেমে অটোরিকশায় বাসায় ফিরছিলেন তিনি। এক্সপ্রেসওয়ে থেকে নামার সময় লালখান বাজার এলাকায় পুলিশ গাড়িটি থামায় এবং চালকের কাছ থেকে কাগজপত্র নিয়ে নেয়। এরপর নাঈমকে গাড়ি থেকে নামিয়ে খুলশী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম ও পুলিশের সোর্স সোহেল লাঠি ও পাইপ দিয়ে মারধর করেন। এরপর তাকে অটোরিকশায় তুলে খুলশী থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

নাঈম বলেন, ‘সিএনজিতে যখন তোলা হয়, আমি জানতাম না আমার গলা চেপে ধরবে। তখন আমি ভয় পেয়ে গেছি। পরে থানায় আমার সঙ্গে থাকা পিন পর্যন্ত তাদের দেখিয়েছি।’ থানায়ও হেনস্তা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। ঘটনার দিন পুলিশ তার জিনিসপত্র তল্লাশি করেনি বলেও জানান তিনি — চাইলে করতে দিতেন বলেও মন্তব্য করেন।

পুলিশ যখন থানায় নিয়ে যাচ্ছিল, তখন জড়ো হওয়া সমর্থকদের অনুরোধ করেন নাঈম। তারা রাতে লালখান বাজার থেকে খুলশী থানা পর্যন্ত তার সঙ্গে যান বলে জানান তিনি। তাদের উপস্থিতির কারণে পরিস্থিতি আর খারাপ হয়নি বলে মনে করেন নাঈম।

বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের হস্তক্ষেপ প্রসঙ্গে নাঈম জানান, তামিমের ফোনের পরই কাজ হয়েছে। তবে তামিম যখন ওসির সঙ্গে কথা বলছিলেন, তখন নাঈম কথা বলতে চাইলে ওসি আঙুল দেখিয়ে তাকে চুপ থাকতে বলেন। পরে বিসিবির কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে থানা থেকে মুক্তি পান তিনি।

জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়ে নাঈম বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে সে জন্য ব্যবস্থা নিয়েছেন এবং এতে অন্তত ১০ জন মানুষের উপকার হবে। নিজেকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি একটু একা থাকতে চাইছি।’

এ ঘটনায় খুলশী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম ও কনস্টেবল মো. রাসেল চৌধুরীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। শুক্রবার রাতেই তাদের থানা থেকে প্রত্যাহার করে সিএমপির দামপাড়া পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়। পুলিশের সোর্স সোহেলকেও আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিএমপি কমিশনার। আজ শনিবার দুপুরে নাঈমের বাসায় গিয়ে সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী সাংবাদিকদের জানান, ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।