সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও আটক হয়নি রিপন হত্যার আসামিরা

0

 

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর শহরের মুজিব সড়কে রিপন নামে এক সন্ত্রাসীকে জনসম্মুখে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার এক সপ্তাহ পার হলেও জড়িত প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসী হাসিবসহ অন্যদের এখনো পর্যন্ত আটক করতে পারেনি পুলিশ। ইতোমধ্যে হত্যাকাণ্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। সিসি ক্যামেরায় কুপিয়ে হত্যাকাণ্ডের এই দৃশ্য ধরা পড়ার পর তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।
রিপন হত্যা মামলার প্রধান আসামি সন্ত্রাসী হাসিব যশোর পৌরসভার আলোচিত একজন পৌর কাউন্সিলরের ক্যাডার হিসেবে পরিচিত। এই হত্যাকাণ্ডের জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ এক নেতার অনুসারী হিসেবে পরিচিত ওই পৌর কাউন্সিলের ইন্ধন ছিলো কি- না তাও খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
গত ১৬ অক্টোবর রাত ৮টার দিকে শহরের মুজিব সড়কের অভিজাত পোশাক বিক্রির মার্কেট এলাকায় ধাওয়া করে নিয়ে যাওয়ার পর প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে হত্যা করে রিপন নামে ওই সন্ত্রাসীকে। আক্রমণের শিকার হলে মৃত্যুর আগে রিপনও প্রতিপক্ষ এক সন্ত্রাসীকে ছুরিকাঘাতে জখম করেন। সেই দৃশ্যও ধরা পড়েছে সেখানকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজে। রিপন হত্যাকা-ের পরদিন ১৭ অক্টোবর রাতে নিহতের মা খড়কি বামনপাড়ার বাসিন্দা রুপবান সন্ত্রাসী হাসিবসহ ১০ জনকে আসামি করে কোতয়ালি থানায় মামলা করেন। কিন্তু পুলিশ এজাহারভুক্ত একজন আসামি ইমন ছাড়া আর কাউকে এখনো আটক করতে পারেনি। আটক ইমন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে দেন। সেই জবানবন্দিতে হত্যার কারণ এবং জড়িতদের নামও প্রকাশ করেছেন বলে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে।
রিপন হত্যাকাণ্ডের এক সপ্তাহ পার হলেও সন্ত্রাসী হাসিবসহ বাকি ৯ আসামিকে পুলিশ আটক করতে না পারায় এ নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, সন্ত্রাসী হাসিবসহ মামলার অপর আসামিরা সরকারি দলের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত আলোচিত একজন পৌর কাউন্সিলরের ক্যাডার হওয়ায় তাদের আটকে পুলিশি তৎপতার কমে গেছে। তবে ওই কাউন্সিলরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তার কাছ থেকে প্রধান আসামি সন্ত্রাসী হাসিবের সন্ধান মিলতে পারে বলে স্থানীয়রা দাবি করছেন। সন্ত্রাসী হাসিব এক সময় জেলা ছাত্রলীগের সাবেক নেতা শিপলুর অনুসারী ছিলেন। রিপন খুন হওয়ার এক সপ্তাহ আগে তাকে নিজের গ্রুপে ভিড়িয়ে নেন আলোচিত ওই পৌর কাউন্সিলর। বিষয়টি সর্বত্র চাউর হচ্ছে। তবে রিপন খুন হওয়ার পর ওইদিন রাতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাকে ডেকে নিয়ে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
যোগাযোগ করা হলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুরাতন কসবা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইনসপেক্টর রেজাউল করিম জানান, আসামিদের আটকের জন্যে তারা জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।