সংবিধান সংশোধন ও রাজনৈতিক মেরুকরণের মাঝে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে তাড়াহুড়ো করছে না সরকার

0
বঙ্গভবন ।। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে আপাতত কোনো তাড়াহুড়ো করছে না ক্ষমতাসীন দল বিএনপি ও সরকার। আগামী সেপ্টেম্বর মাসে জাতীয় সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করার কৌশলগত পরিকল্পনা রয়েছে।
এর আগেই সরকারের আনা প্রস্তাবিত সংবিধানের ১৮তম সংশোধনী বিলের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও দায়িত্বের পরিধি কতটা পরিবর্তিত হয়, সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়ার পরই চূড়ান্ত প্রার্থী মনোনয়ন দেবে বিএনপি।

সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর বর্তমানে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

বিএনপি সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় থাকায় তাদের মনোনীত প্রার্থীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়া নিশ্চিত। তবে দলীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনার পর এবং প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মতামতের ভিত্তিতে প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত করা হবে।

নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে রাষ্ট্রপতি পদের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সবার চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন বর্তমান স্থানীয় সরকারমন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় ধরে দলকে নেতৃত্ব দেওয়া ও তাঁর ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতার কারণে সাবেক আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুলসহ অনেকেই তাঁকে এই পদের জন্য উপযুক্ত মনে করছেন। তবে তাকে রাষ্ট্রপতি করা হলে দলীয় মহাসচিব পদ, মন্ত্রিত্ব ও তাঁর সংসদীয় আসনে শূন্যতা তৈরি হবে, যা সামলানোর হিসাব-নিকাশও চলছে।

মির্জা ফখরুল ছাড়াও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান এবং বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদের নামও আলোচনায় রয়েছে।

অন্যদিকে রাজনীতির বাইরে দল নিরপেক্ষ কাউকে করা হলে দেশের একজন সাবেক প্রধান বিচারপতির নাম বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান নিশ্চিত করেছেন যে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য আলাদা বিশেষ অধিবেশনের প্রয়োজন হবে না এবং নিয়মিত অধিবেশনেই নির্বাচন সম্পন্ন হবে। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ভোটার তালিকা ও আনুষঙ্গিক প্রস্তুতির কাজ শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন।