সংবিধানে ফিরল গণভোট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা, হাইকোর্টের রায় বহাল রাখলেন আপিল বিভাগ

0
ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে দেশে ১১ জনের প্রাণহানি; সহিংসতা ও শব্দদূষণ রোধে হাইকোর্টে রিট।। ফাইল ছবি: সংগৃহীত

বহুল আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এর ফলে দেশের সংবিধানে গণভোট এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্প্রতিষ্ঠিত হলো। আজ বৃহস্পতিবার সকালে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ এই চূড়ান্ত রায় প্রদান করেন। সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা নিশ্চিত করেছেন যে, এই রায়ের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ও গণভোটের বিধান পুনর্বহাল সংক্রান্ত হাইকোর্টের পূর্ববর্তী সিদ্ধান্তই বলবৎ রইল।

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে পৃথক তিনটি আপিল দায়ের করা হয়েছিল। এর মধ্যে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ চার ব্যক্তি একটি এবং নওগাঁর বাসিন্দা মো. মোফাজ্জল হোসেন পৃথক একটি আপিল করেন। এ ছাড়া জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার আরেকটি আপিল দায়ের করেছিলেন। গত সোমবার এই পৃথক আপিলগুলোর ওপর শুনানি শুরু হয়। এরপর মঙ্গলবার ও বুধবার শুনানি শেষে আপিল বিভাগ রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিনটি ধার্য করেছিলেন।

গতকাল বুধবার এক ব্রিফিংয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেছিলেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে মূলত দেশের সংবিধানের আমূল পরিবর্তন করা হয়েছিল। এই পরিবর্তনের সঙ্গে মানুষের বাকস্বাধীনতা, গণতন্ত্র এবং দেশের আগামী দিনের অগ্রযাত্রা ও গণতন্ত্রের অভিযাত্রা—সবকিছুই বাধাগ্রস্ত ছিল।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৩০ জুন তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনী আইন পাশ করা হয়, যার মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলোপসহ সংবিধানের ৫৪টি ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা হয়েছিল। এই সংশোধনীতে অবৈধ ক্ষমতা দখলের সর্বোচ্চ শাস্তি এবং জাতির পিতা হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বীকৃতির পাশাপাশি জাতীয় চার মূলনীতি—জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা ফিরিয়ে আনা হয়।

২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পঞ্চদশ সংশোধনীর পুরো আইন ও এর কয়েকটি ধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আলাদা দুটি রিট দায়ের করা হয়। চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট রায় দেন। রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং গণভোট বাদ দেওয়া-সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ২০ ও ২১ নম্বর ধারা বাতিল ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে এই আইনের মাধ্যমে সংবিধানে যুক্ত ৭ক, ৭খ ও ৪৪(২) অনুচ্ছেদকে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করেছিলেন হাইকোর্ট, যা আজ আপিল বিভাগের রায়ে বহাল থাকল।