সংঘর্ষে আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার খরচ দেবে সরকার: স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়

0

লোকসমাজ ডেস্ক॥ ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে সংঘর্ষ ও সংঘাতে আহত ব্যক্তিদের সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থাসহ চিকিৎসার যাবতীয় ব্যয় বহন করবে সরকার। এ জন্য বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহত চিকিৎসাধীন ছাত্র-জনতার চিকিৎসা সেবা সুনিশ্চিত করতে দেশের সব সরকারি হাসপাতালে আলাদা বিশেষ ইউনিট করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
শনিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহত ব্যক্তিদের বিষয়ে খোঁজখবর নিতে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় একটি কমিটি গঠন করেছে। কমিটি পরবর্তী কর্মপন্থা নির্ধারণে রোববার  বৈঠকে বসবে।
বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহত ছাত্র-জনতার চিকিৎসায় আপাতত বিল গ্রহণ না করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। প্রয়োজনে এসব বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছাত্র-জনতার সব বিল সরকার বহন করবে বলেও জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।
গত বৃহস্পতিবার অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নুরজাহান বেগম, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া পঙ্গু হাসপাতালে গিয়েছিলেন। হাসপাতাল ছেড়ে যাওয়ার আগে নুরজাহান বেগম সাংবাদিকদের বলেন, আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার সব খরচ সরকার বহন করবে। আর ফরিদা আখতার বলেন, হাসপাতাল থেকে ছুটি নেওয়ার পরও কারও কারও চিকিৎসার প্রয়োজন হবে। সেই প্রয়োজন মেটাতে প্রত্যেক রোগীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে।
জাতীয় দৈনিক প্রথম আলোর একটি সংবাদ থেকে জানা যায় তাদের প্রতিনিধিরা ২৩ থেকে ২৭ জুলাই রাজধানীর মোট ৩৮টি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে গিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। সংঘর্ষ ও সংঘাতের ঘটনায় তখন আহত ৬ হাজার ৭০৩ জনের কথা জানা গিয়েছিল। এসব রোগী ১৬ থেকে ২২ জুলাইয়ের মধ্যে হাসপাতালে এসেছেন। যদিও মোট কত মানুষ আহত হয়েছেন, তার সুনির্দিষ্ট সংখ্যা এখনো জানা যায়নি।
এদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহত চিকিৎসাধীন ছাত্র-জনতার চিকিৎসা সেবা সুনিশ্চিত করতে দেশের সব সরকারি হাসপাতালে আলাদা বিশেষ ইউনিট করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
আন্দোলনে আহত চিকিৎসাধীন ছাত্র-জনতার চিকিৎসাসেবা সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে গতকাল শনিবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈঠকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক আহমেদুল কবীর, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, সমন্বয়ক সারজিস আলম ও হাসনাত আবদুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।