শেষরাতে বেপরোয়া প্রাইভেট কারের ৪ আরোহী হতাহত নিয়ে নানা প্রশ্ন

0

স্টাফ রিপোর্টার॥ যশোর সদরের নতুনহাটে বুধবার শেষ রাতে একটি প্রাইভেট কার গাছের সাথে ধাক্কায় এক তরুণীসহ দুই জন নিহত ও দুই জন আহত হওয়ার ঘটনা নিয়ে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। কেননা এই ঘটনায় হতাহতদের কারো সুখ্যাতি নেই যশোর শহরে। তাদের বিত্ত বৈভরে উৎস নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে এলাকায়।

নিহতরা হচ্ছেন গাড়ির চালক যশোর উপশহর সারথি মোড় এলাকার বাসিন্দা লিটন গাজীর স্ত্রী আফরিন আক্তার জুঁই ওরফে রুশা (৩০) ও যশোর শহরের স্টেডিয়াম পাড়ার আব্দুল হকের পুত্র মাসুদুর রহমান মিলন (৪০)। তারা এই শহরের একটি মহলে অতি পরিচিত মুখ। নিহত মিলন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের যশোর শাখার সাবেক ক্রীড়া সম্পাদক ছিলেন।

আহত দুই জন হচ্ছেন যশোর সদর উপজেলার এড়েন্দা গ্রামের মৃত নুর ইসলামের পুত্র মাসুদ রানা (৪৫) ও বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার কাটাখালি বেতাগা গ্রামের ফরিদ হোসেনের পুত্র মামুন (৩২)। মাসুদ রানাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। আহত মামুন যশোর জেনারেল হাসপাতাল থেকে কাউকে কিছু না বলে চলে যান। হাসপাতালের খাতায় তাকে পলাতক দেখানো হয়েছে।

পুলিশ এ দুর্ঘটনার জন্য প্রাইভেট কারের দ্রুত গতিকে দায়ি করলেও নিহত তরুণীর স্বামী থানায় করা মামলায় উল্লেখ করেছেন অজ্ঞাত এক পিকআপের ধাক্কায় এ ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া শেষ রাতে যশোর-বেনাপোল সড়ক দিয়ে তারা কোথায় যাচ্ছিলেন তা নিয়েও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। নাভারণ হাইওয়ে ফাঁড়ির ওসি রোকনুজ্জামান জানান, হতাহতরা বেনাপোলে যাচ্ছিলেন। কিন্তু জুঁইয়ের স্বামী লিটন বলেন, তারা অসুস্থ এক জনকে দেখতে ঝিকরগাছায় যাচ্ছিলেন। তবে তার কথার ভিত্তি খুঁজে পাওয়া যায়নি গতকাল।

নাভারণ হাইওয়ে ফাঁড়ির ওসি রোকনুজ্জামান জানান, বুধবার দিবাগত রাত ৩টা ৩০ মিনিটের দিকে একটি প্রাইভেট কারে চার জন বেনাপোলে যাচ্ছিলেন। দ্রুত গতির কারটি বেনাপোল সড়কের নুতনহাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের একটি গাছে সজোরে ধাক্কা লাগে। ধাক্কার গতি এত বেশি ছিল যে গাছের সাথে ধাক্কা লেগে অপর পাশে চলে যায় কারটি এবং এর কাঠামোর অংশ ছিন্নভিন্ন হয়ে নিচ থেকে ইঞ্জিন বেরিয়ে ছিটকে পড়ে রাস্তায়। গাড়ি চালাচ্ছিলেন জুঁই ওরফে রুশা, তার পাশে বসেছিলেন মিলন। ঘটনাস্থলে তাদের মৃত্যু হয়। আহত দুই জন পিছনে বসেছিলেন।

এদিকে এ দুর্ঘটনায় হতাহত চার জনে কী সম্পর্ক তা জানা যায়নি। নিহত জুঁইয়ের স্বামী লিটন গাজী থানায় করা মামলায় উল্লেখ করেছেন তার স্ত্রী ও মিলন ব্যবসায়ীক অংশীদার (পার্টনার)। তবে বাকি দুই জন সম্পর্কে তিনি মামলায় কিছু উল্লেখ করেননি। তবে জানা গেছে গাড়ির মালিক এ ঘটনায় আহত মাসুদ রানা।

তবে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে ছাত্রলীগ করা মিলন আওয়ামী লীগের সময় বিভিন্ন স্থানে মেলার আয়োজনসহ বিভিন্ন টেন্ডারে নানা পক্ষের হয়ে অংশ নিতেন। এছাড়া যশোর শহরে আওয়ামী রাজনীতির একটি চক্রের সাথে মিলন, জুঁইয়ের সখ্য অনেকেই জানেন। তাদের সম্পর্ক দীর্ঘ দিনের। জুইয়ের স্বামী লিটন গাজীর পৈত্রিক বাড়ি যশোর সদরের সুজলপুরে হলেও এ দম্পতির বসবাস শহরতলীর উপশহর-বিরামপর সারথির মোড় এলাকায়। তারা সেখানে ব্যয়বহুল বাড়ি নির্মাণ করেছেন।

আহত মাসুদ রানা সোনা চোরাচালান মামলায় আটক হয়েছেন এক বার। তার গাড়িতে গত বছরও দুর্ঘটনায় দুই নারী ও পুরুষের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল।

গতকাল সকালে নিহত দুই জনের পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়া মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে লিটন গাজী এ ঘটনায় কোতয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।