শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক তৎপরতার সুযোগ দিলে সম্পর্ক নিয়ে ভাবতে হবে ভারতকে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

0
ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক তৎপরতার সুযোগ দিলে দেশটির সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে ভাবতে হবে বলে সতর্ক করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ঢাবির এক সভায় গণ-অভ্যুত্থানকে ১৭ বছরের আন্দোলনের ফল বলে উল্লেখ করেন তিনি।। ছবি: সংগৃহীত

ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক তৎপরতা চালানোর সুযোগ দেওয়া হলে বাংলাদেশের সঙ্গে দেশটির বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে বলে ভারতকে সতর্কবার্তা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

শনিবার (৮ আগস্ট) জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

‘ফ্যাসিস্ট সরকার পতনে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ভূমিকা’ শীর্ষক এ আলোচনা সভার যৌথ আয়োজন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দল ও ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব)।

ভারত সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আপনারা হাসিনা কার্ড খেলবেন আর বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চাইবেন; মনে রাখতে হবে, দুটো বিপরীত। আশা করি, ভারতের কর্তৃপক্ষ ও ভারত সরকার বিষয়টি বুঝবে।” তিনি আরও যোগ করেন, বাংলাদেশ প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে পারস্পরিক নির্ভরতা ও সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে বন্ধুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। তাই শেখ হাসিনার রাজনৈতিক বক্তব্য প্রদান কিংবা বাংলাদেশবিরোধী কর্মকাণ্ডে সমর্থন না দেওয়ার জন্য ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পটভূমি তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এই অভ্যুত্থান হঠাৎ করে ঘটে যাওয়া কোনো ঘটনা নয়, বরং এটি দীর্ঘ ১৭ বছরের ত্যাগ ও ধারাবাহিক আন্দোলনের ফসল। নতুন রাজনৈতিক দলের নেতাদের ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, রাজনীতিতে অভিজ্ঞতা ও পরিপক্বতার কোনো বিকল্প নেই। ১৭ বছরের আন্দোলনকে বাদ দিয়ে কেবল ৩৬ দিনে সব অর্জিত হয়েছে—এমন ভাবনা বাস্তবসম্মত নয়।

তিনি সহিংসতা উসকে দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে বলে হুঁশিয়ারি দেন এবং উসকানিতে পা না দিতে শিক্ষার্থীদের প্রতি অনুরোধ জানান। যেকোনো অপপ্রচার বা গালির জবাব গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের মাধ্যমে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি এমনভাবে সংবিধান সংস্কার করবে, যা ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গঠনে দীর্ঘ মেয়াদে কাজে আসবে।

আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের কৃতিত্ব কোনো একক গোষ্ঠীর দাবি করার সুযোগ নেই। তিনি জানান, ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ ও ‘বাংলা ব্লকেড’-এর মতো কর্মসূচিতে বিএনপির পূর্ণ সমর্থন ছিল এবং আন্দোলনে ছাত্রদলের ১৪২ জন নেতা-কর্মী শহীদ হয়েছেন। সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর আমিরের বাসভবনে প্রদর্শিত তথ্যচিত্রে জিয়াউর রহমানের নাম না থাকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিষয়টিকে ‘তাৎপর্যপূর্ণ ও রহস্যজনক’ বলে মন্তব্য করেন রিজভী।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদের আমলে ক্যাম্পাসে স্বৈরাচারী নিয়ন্ত্রণ বজায় ছিল এবং প্রতিবাদী শিক্ষকদের ওপর নির্যাতন চালানো হতো। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ইউট্যাবের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক মো. নুরুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে শহীদ মো. ওয়াসিম আকরামের বাবা শফিউল আলম আবেগঘন বক্তব্যে বলেন, জুলাইয়ের রক্তক্ষয়ী কৃতিত্ব নিতে গিয়ে কেউ যেন এটিকে ‘বাবার সম্পত্তির মতো’ ব্যবহার না করেন। ইউট্যাবের মহাসচিব অধ্যাপক মো. মোর্শেদ হাসান খানের সভাপতিত্বে এবং অধ্যাপক মো. মহিউদ্দিনের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক লুৎফর রহমান, শহীদ আবু সাইদের ভাই আবু হোসেন, শহীদ মুগ্ধর ভাই মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ এবং শহীদ সাজিদের মা মোছা. নাজমা খাতুন।