শেখহাটিতে দিপু হত্যাকাণ্ডে পাঁচ জনের বিরুদ্ধে মামলা,আটক

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর শহরতলীর শেখহাটিতে যুবক দিপু হোসেন হত্যার ঘটনায় নিহতের পিতা রফিকুল ইসলাম মনু শনিবার রাতে কোতয়ালি থানায় মামলা করেছেন। মামলায় ৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩/৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ ওই মামলায় রানা হোসেন ওরফে আব্দুল আলিম (২৫) নামে এজাহারভুক্ত এক আসামিকে আটক করেছে। শহরের কালেক্টরেট মার্কেট থেকে তাকে আটক করা হয়। রানা হোসেন ওরফে আব্দুল আলিম ছোট শেখহাটির সিরাজ হোসেনের ছেলে।
মামলার অপর আসামিরা হলেন, ছোট শেখহাটির মোহাম্মদ ইসলামের ছেলে রাব্বি (৩০), মোহাম্মদ আবুর ছেলে আসাদুল (২৯), তোফাজ্জেলের ছেলে হৃদয় (৩০) ও ফজের আলীর ছেলে তাজু (৩৩)।
ছোট শেখহাটি পূর্বপাড়ার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম মামলায় উল্লেখ করেছেন, তার ছোট ছেলে দিপু। তিনি রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। মাঝে মধ্যে বিভিন্ন লোকের গরুর মাংস কাটার কাজে সহায়তাা করতেন। প্রায় ১ মাস আগে প্রতিবেশী টাক বাবু তার গরুর মাংস কাটার কাজের জন্যে নিহত দিপু এবং আসামি রাব্বি এবং একই এলাকার সাঈদকে ডেকে নিয়ে যান। ৩ হাজার টাকা চুক্তিতে তারা টাক বাবুর গরু জবাই এবং মাংস কাটার কাজ করতেন। কিন্তু দিপুর পাওনা ১ হাজার টাকা তাকে না দিয়ে নিজের কাছে রেখে দেন রাব্বি। টাকা চাইলে রাব্বি তাকে ঘুরাতেন। এক পর্যায়ে রাব্বি তাকে খুন -জখমের হুমকি দেন। গত ১৯ জানুয়ারি রাত সাড়ে ১০টার দিকে রফিকুল ইসলামের বাড়িতে গিয়ে তার ছেলে হৃদয়কে খোঁজাখুুঁজি করেন রাব্বি। তখন রফিকুল ইসলাম তাকে জানান, তার ছেলে দিপু রিকশা চালাতে গিয়েছে। এ কথা শুনে রাব্বি সেখান থেকে চলে যান। এ ঘটনার পর রাত ১টার দিকে দিপু শেখহাটি জামরুলতলার জনৈক কামরুলের চার্জারের গোডাউনে রিকশা রেখে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে শেখহাটি মুন্সি বাঁশতলা নামক স্থানে পৌঁছালে উল্লিখিত আসামিরা তার ওপর চড়াও হন। এ সময় তারা গামছা দিয়ে দিপুর চোখ ও মুখ বেঁধে পাশের জনৈক আব্দুর রব মুন্সির মেহগনি বাগানে নিয়ে যান। সেখানে নেয়ার পর তারা গাছের ডাল, লোহার রড, কাঠের লাঠি ও বাঁশের লাঠি দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি বেধড়ক মারধর করেন। এতে গুরুতর জখম হন দিপু। এরই এক পর্যায়ে দিপুর চিৎকারে আশেপাশের লোকজন সেখানে এগিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার বিকেল ৩টার দিকে দিপু মারা যান।
পুলিশ জানায়, দিপু হত্যার ঘটনায় শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে নিহতের পিতা রফিকুল ইসলাম কোতয়ালি থানায় মামলা করেছেন। পরে রাত ১০টার দিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তালবাড়িয়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই মো. একরামুল হুদা শহরের কালেক্টরেট মার্কেট থেকে এজাহারভুক্ত আসামি রানা হোসেন ওরফে আব্দুল আলিমকে আটক করেন। রোববার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।