শিক্ষিকাকে ‘আপত্তিকর’ কথা বলায় অভিযুক্ত মাদ্রাসার শিক্ষককে ১ মাসের কারাদণ্ড

0
ছবি: সংগৃহীত।

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর সদর উপজেলার আরবপুর ইউনিয়নের বালিয়া ভেকুটিয়ার ইকরা ইসলামীয়া ক্যাডেট মাদ্রাসার একজন শিক্ষিকাকে নিজ কক্ষে ডেকে ‘আপত্তিকর’ কথা বলেছিলেন প্রধান শিক্ষক ইশতিয়াক হোসেন। সেই ঘটনায় আটক প্রধান শিক্ষককে সামারি ট্রাইলের মাধ্যমে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়েছে।

যশোর সদর আমলী আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সঞ্জয় পাল রোববার তাকে এই দন্ডাদেশ প্রদান করেন। কোতয়ালি থানা পুলিশের এসআই মো. আলমগীর হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সাজাপ্রাপ্ত ইশতিয়াক হোসেন (৫২) সদর উপজেলার বালিয়া ভেকুটিয়ার মৃত ইউসুফের ছেলে।

আদালত রায় ঘোষণার পর সাজাপ্রাপ্ত আসামি ইশতিয়াক হোসেনকে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

ভুক্তভোগী শিক্ষিকা (২৬) একই মাদ্রাসায় কর্মরত আছেন। তার অভিযোগ ছিলো, প্রধান শিক্ষক ইশতিয়াক হোসেন দীর্ঘদিন ধরে তাকে বিভিন্নভাবে কু-প্রস্তাব ও অশালীন কথাবার্তা বলে আসছেন। গত ৫ আগস্ট সকাল ১১টার দিকে মাদ্রাসায় কর্মরত ছিলেন।

এ সময় প্রধান শিক্ষক ইশতিয়াক হোসেন তাকে তার নিজ অফিস কক্ষে ডাকেন। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তিনি অফিস কক্ষে প্রবেশের আগে নিজের মোবাইল ফোনসেটে অডিও রেকর্ড চালু করে রাখেন। পরে অফিস কক্ষে ঢুকলে প্রধান শিক্ষক তাকে বিভিন্ন অশালীন, কুরুচিপূর্ণ ও আপত্তিকর কথা বলেন বলেন।

এমনকী তাকে নানা ধরনের ভয়ভীতি দেখানো হয়। পরবর্তীতে তিনি কক্ষ থেকে বের হয়ে ধারণকৃত কথোপকথনের অডিও অন্য শিক্ষক ও কর্মচারীদের শোনান। তখন বিষয়টি নিয়ে মাদ্রাসায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

একপর্যায়ে ৮ আগস্ট শিক্ষক ও কর্মচারীরা বিষয়টি পুলিশকে জানান। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাদ্রসার প্রধান শিক্ষক ইশতিয়াক হোসেনকে হেফাজতে নেয়।

কোতয়ালি থানা পুলিশের এসআই মো. আলমগীর হোসেন জানান, ইশতিয়াক হোসেনের বিরুদ্ধে আপত্তিকর কথা বলার অভিযোগ করেছিলেন ভুক্তভোগী শিক্ষিকা। এর প্রেক্ষিতে অভিযোগের বিষয়ে তিনি রোববার আদালতে (প্রসিকিউশন) প্রতিবেদন দাখিল করেন। আদালত বাদী ও আসামি উভয়ের বক্তব্য শোনে।

এ সময় আসামি ইশতিয়াক হোসেন ‘আপত্তিকর’ কথা বলেছেন বলে আদালতের কাছে দোষ স্বীকার করায় সামারি ট্রাইলে বিচারক তাকে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ডের আদেশ দেন।