শার্শার তেলপাম্প ইস্যুতে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন আনোয়ারের

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বিকরিয়া ফিলিং স্টেশন দখলের অভিযোগটি সত্য নয় বলে দাবি করেছেন শার্শার বাগআঁচড়া ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন ওরফে আয়নাল। তার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনের পর দিনই সোমবার বেলা ১২টার দিকে প্রেসক্লাব যশোরে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।

এসময় তিনি বলেন, যারা অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সুবিধা নিয়েছেন, তারাই নেপথ্যে থেকে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন। মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে বিএনপির ভাবমূর্তি নষ্টের চেষ্টা চলছে বলেও তিনি পাল্টা অভিযোগ করেন।

লিখিত বক্তব্যে আনোয়ার হোসেন বলেন, ১৯৯৯ সালে রেজিস্ট্রিকৃত কবলা দলিলের মাধ্যমে তিনি পাম্পের প্রতিষ্ঠাতা গোলাম কিবরিয়ার কাছ থেকে ১৭ শতক জমি কিনে নেন এবং মেসার্স কিবরিয়া ফিলিং স্টেশনের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হন। ২০১২-১৩ সালে গোলাম কিবরিয়া আর্থিক সংকটে পড়লে আনোয়ার তার ভাই জামালের কাছ থেকে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা নিয়ে কিবরিয়াকে দেন এবং অঙ্গীকারনামা নেন। ২০২২ সালের জুনে গোলাম কিবরিয়ার মৃত্যুর পর তার ওয়ারিশরা এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ সমর্থিত একটি পক্ষ ২০২৪ সালে পাম্পে হামলা চালিয়ে খুলনা ডিপো থেকে তেল উত্তোলন বন্ধ করে দেয়। তাকে আটকও করা হয় এবং কিবরিয়ার মেয়ে তনিমা তাসনুমাসহ আওয়ামী লীগ সমর্থিতরা তার তেলপাম্প দখল করে নেয় বলে দাবি করেন আনোয়ার।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ২০১৭ সালে গোলাম কিবরিয়ার ঋণের চাপের কারণে তার জমি, বাড়িসহ বিভিন্ন সম্পদ নিলামে ওঠে। এ সময় কিবরিয়ার ছোট ভাই বেনাপোলের কাগজপুকুরের ‘তনিমা ফিলিং স্টেশন’টি ১১৫ শতক জমিসহ তার ছোট ভাই জামাল হোসেনের কাছে ৬ কোটি ৭ লাখ টাকায় বিক্রি করেন।

বর্তমানে এর মালিক জামাল হোসেন। পরে বিস্ফোরক পরিদপ্তর খুলনা তনিমা ফিলিং স্টেশনের লাইসেন্স বাতিল করে ২০২৩ সালের জুলাইয়ে ‘মেসার্স আনোয়ার ফিলিং স্টেশন’ নামে নতুন লাইসেন্স দেয়, যা ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বলবৎ রয়েছে। অথচ সেটিও এখন তনিমারা দখলে রেখেছেন, যেটা অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা হচ্ছে বলে দাবি করেন আনোয়ার।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি আরও বলেন, কিবরিয়ার মেয়ে তনিমা তাসনুমাসহ তার পরিবারের কাছে এলাকার অনেকেই টাকা পাবেন। একারণে তারা এতোদিন প্রকাশ্যে আসতে চাননি। জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রকাশ্যে এসে তেলপাম্প দখলের কথা বলে প্রকাশ্যে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমার প্রয়োজনীয় সব ডকুমেন্ট থাকা সত্ত্বেও পাম্পটি দখলে নিতে পারছিনা। এর বড় কারণ তারা পরিকল্পিতভাবে বিএনপি তেলপাম্প দখল করছে বলে অপপ্রচার চালিয়ে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। এসব কারণে বিএনপি নেতাদের অনুরোধে আমাকে চুপ থাকতে হচ্ছে। তারপরও এই সুযোগে তারা বিএনপির নাম উল্লেখ করে নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে।’

সংবাদ সম্মেলনে আনোয়ার হোসেন ছাড়াও তার ভাই জামাল হোসেনসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।