লোহাগড়ায় ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় বাড়ি ছাড়া কৃষক পরিবার

0

লোহাগড়া(নড়াইল)সংবাদদাতা॥ লোহাগড়া উপজেলার লাহুড়িয়া ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের কৃষক ফরিদ মোল্যা ও তার পরিবার ভূমি জালিয়াত চক্রের দায়েরকৃত মামলার কারণে বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন বলে দাবি করেছেন।
অভিযোগে জানা গেছে, রাজাপুর গ্রামের নান্নু মোল্যা জীবিত থাকাকালীন উপজেলা সদরের কিছু চিহ্নিত দলিল ও স্ট্যাম্প জালিয়াত চক্রের সহায়তায় কুমড়ি, বাটিকাবাড়ি, নোয়াগ্রাম, ধোপাদাহ ও বাতাসি মৌজায় অবস্থিত ভূমি যা লক্ষীপাশা সাবরেজিস্ট্রার কার্যালয়ের আগে রেজিস্ট্রিকৃত দলিল দাগ খতিয়ান ও ভিন্ন দাতা-গ্রহীতার নামের স্থলে নিজের নাম ব্যবহার করে একাধিক জাল দলিল তৈরি করেন। ওই জাল দলিলের ভিত্তিতে কৌশলে গত মাঠ জরিপে আরএস রেকর্ড সম্পন্ন হয়।
গত কয়েক মাস আগে নান্নু মোল্যা মারা যান। এরপর ওই জমি দখল করার জন্যে নান্নু মোল্যার ছেলে উতার মোল্যার নেতৃত্বে গত ৬ মে সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে ১৫-২০ জন বহিরাগত ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী নিয়ে এক একরের অধিক জমিতে লাগানো পাট ট্রাক্টর দিয়ে বিনষ্ট করে জমি দখলের চেষ্টা করেন। এ ঘটনায় ফরিদ মোল্যা ও তার পরিবার জমি দখলে বাধা দিলে তাদের ওপর সন্ত্রাসীরা চড়াও হয়। খবর পেয়ে লাহুড়িয়া তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় উতার মোল্যা আইনি রক্ষা পেতে কৌশলে উল্টো তার আত্মীয় ঈশানগাতী গ্রামের খাইরুল ইসলামকে বাদি করে ফরিদ মোল্যাসহ তার পরিবারের নিরীহ ২২ জনকে আসামি করে গত ৯মে নড়াইলের আমলী আদালতে একটি মারপিট ও ভাংচুরের সাজানো মামলা দায়ের করেন। মামলাটি বর্তমানে জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি’র) তদন্তাধীন। মামলার ভয়ে ফরিদ মোল্যা ও তার পরিবার কৃষিকাজ ফেলে দীর্ঘদিন বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
জমি রেকর্ডের বিষয়ে জানতে চাইলে উতার মোল্যা বলেন, আমার পিতা জীবিত থাকাকালীন কিভাবে রেকর্ড করিয়েছেন জানিনা।
লোহাগড়া উপজেলা সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার নিত্যানন্দ চৌধুরী দলিল জালিয়াতির মাধ্যমে অন্যের নামে আরএস রেকর্ড (প্রিন্ট পর্চা) বিষয়ে বলেন, যশোর জোনাল অফিসে একটি মিসকেস দাখিল করলে তদন্ত করে সংশোধন করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
লাহুড়িয়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. সেলিম উদ্দিন বলেন, মারপিট ও বাড়ি ভাঙচুরের কোন ঘটনা আগে বা পরেও ঘটেনি। কয়েক বছর আগের একটি বাড়ি ভাঙচুরের কয়েকটি ছবি ব্যবহার করে উতার মোল্যা পক্ষীয় লোকজন ফরিদ মোল্যার পরিবারকে হয়রানির চেষ্টা করছে।