রোড মার্চে অংশ নিতে যশোর আসার পথে শার্শায় বিএনপি নেতা-কর্মীদের ওপর তান্ডব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর, অর্ধশতাধিক জখম

0

শার্শা (যশোর) সংবাদদাতা ॥ ২৬ সেপ্টেম্বর বিএনপির খুলনা বিভাগীয় রোড মার্চে অংশ নিতে যশোরে আসায় শার্শা উপজেলার নিজামপুর, ডিহি ও গোগা ইউনিয়ন বিএনপি অর্ধশত কর্মীকে পিটিয়ে জখম ও এক যুবদল নেতার হাত-পা ভেঙে দিয়েছে আওয়ামী লীগের দুর্বৃত্তরা।
ডিহিতে বিএনপির কর্মী লতার বাড়ি থেকে ছাগল ধরে নিয়ে গেছে। বন্ধ করে দিয়েছে গোগা বাজারে ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলামের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও রাইস মিল। আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীদের ভয়ে বাড়ি ছাড়া হয়েছে একাধিক বিএনপি নেতাকর্মী। এসব ঘটনা ঘটেছে গত মঙ্গলবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৭ টার দিকে নিজামপুর ইউনিয়নের একঝালা, ডিহি ইউনিয়নের সাড়াতলা ও গোগা বাজারে।
আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী ও দুর্বৃত্তদের হাতে আহতরা হলেন, নিজামপুর ইউনিয়নের চান্দুড়িয়ার ঘোপ গ্রামের মৃত সুরোত আলীর ছেলে তাইজুল ইসলাম(৫৫), আব্দুস সালামের ছেলে যুবদল নেতা আহসান হাবিব টিটু (৪৫), মৃত আব্দুস ছাত্তারের ছেলে বিল্লাল হোসেন (৩৬), রবিউল ইসলাম এর ছেলে হজরত আলী (২৫), সেলিম হোসেনের ছেলে আবু রায়হান (২০), আব্দুল হামিদের ছেলে গিয়াস উদ্দিন (২৫), ইছাহকের ছেলে আব্দুল হাকিম(৩২), মহতাব আলীর ছেলে আবু বাক্কার (৪২), ডিহি ইউনিয়নের ডিহি গ্রামের হজরত আলীর ছেলে বিএনপি নেতা আনছার আলী(৫৮) ও তার ভাইপো শামছুর রহমান বিশ্বাসের ছেলে সবুজ হোসেন (২৬) ও গোগা ইউনিয়নের কালনি গ্রামের আবদুর রহমান(৫৫), ভুলোট ১ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আলী বদ্দি(৫৫), আমলাই গ্রামের আবু সাইদ (২৫), গোগা কলেজ পাড়ার ঝন্টু(২৭)।
এদের মধ্যে শার্শা বিএনপি নেতা আব্দুস সালামের ছেলে যুবদল নেতা আহসান হাবিব টিটুর একটি হাত ও একটি পা ভেঙে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে যশোরের একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া বিএনপি নেতা আনছার আলী, তাইজুল, বিল্লাল হোসেন ও হজরত এর অবস্থা আশঙ্কাজনক। এ ৪ জনকে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা স্থানীয়ভাবে প্রথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
স্ব স্ব এলাকার স্থানীয় বিএনপি নেতারা অভিযোগ করে বলেন, গত মঙ্গলবার ২৬ সেপ্টেম্বর বিএনপির খুলনা বিভাগীয় রোডমার্চ সফল করতে যশোরে যাওয়ার অপরাধে ওই দিন রাতে নিজামপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালামের নির্দেশে ও ওসমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের চিহ্নিত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী সিরাজুল, লিটন, রিপন, ছোট লিটন, রশিদ, জুলফিকার, সাগরসহ আরও ১০/১২ জন নিজামপুর ইউনিয়নের একঝালা বাজারে তান্ডব চালিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করে আহত করে।
অপরদিকে ডিহি ইউনিয়নের ডিহি গ্রামের চিহ্নিত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী যুবলীগ নেতা রতন ও ছাত্রদল নেতা হারুন হত্যা মামলার প্রধান আসামি ডিহি গ্রামের কানা সিরাজের ছেলে গিয়াসের নেতৃত্বে শহিদুলসহ তার দুই ছেলে, রিয়াজ, কবির, হোটেল আনছারসহ ৮/১০ জন সাড়াতলা বাজারে বিএনপি নেতা আনছার আলীকে বেদমভাবে মারধর করে আহত করে। স্থানীয় বিএনপি নেতারা অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী সন্ত্রাসীরা ডিহি ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুস সামাম সামু খাঁ কে তার বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। আব্দুস সামাদ সামুর চাচা শ^শুর মারা গেলেও সন্ত্রাসীরা তাদের বাড়িতে যেতে দেয়নি। সন্ত্রাসীরা এদিন বিএনপি কর্মী লতার বাড়িতে হামলা করে প্রায় ২৫ হাজার টাকা মূল্যের ১টি খাসি ছাগল লুট করে নিয়ে গেছে।
অপরদিকে একই দিন রাতে খুলনার রোডমার্চ সফল করে বাড়ি ফেরার সময় গোগা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তবিবর রহমান তবির নির্দেশে আওয়ামী লীগের চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী বাবুল মেম্বারের নেতৃত্বে মোহাম্মদ আলী, জিয়া, লাল্টু, আসাদ তান্ডব চালিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করে বেদমভাবে পিটিয়ে জখম করে। বন্ধ করে দেয় ৫ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম এর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রাইস মিল। আছাড় মেরে ভেঙে দেয় যুবদল কর্মী ঝন্টুর ৩০ হাজার টাকা মূল্যের একটি মোবাইল ফোন।
আগামী নির্বাচনে পরাজয় নিশ্চিত জেনে শার্শা উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের বর্তমান ও সাবেক জনপ্রতিনিধিরা মরিয়া হয়ে উঠেছেন। যে কারণে তারা বিএনপির অগ্রযাত্রাকে রুখে দিতে সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছে। অনেক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা নিশ্চুপ হলেও চাঁদাবাজ, মাদক ব্যবসায়ী, অস্ত্র ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী আওয়ামী লীগের কিছু নেতা কর্মী পরিবেশ নষ্ট করতে বিএনপির নীরিহ নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করছে।
এ ব্যাপারে শার্শা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হাসান জর্হি বলেন, তারা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শার্শার তৃণমূল নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে খুলনা বিভাগীয় রোডমার্চ সফল করেতে কয়েক শ মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার , পিকআপ, ট্রাক ও বাসযোগে যশোরের উদ্দেশ্যে নাভারণ-সাতক্ষীরা মোড় থেকে রওয়ানা হই। এ সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা আচমকা শার্শার কামারবাড়ি মোড়ে নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করে, গাড়ি ভাঙচুর করে, নাভারণ মোড়ে পুলিশ গাড়ির চাবি কেড়ে নিয়ে যাওয়ার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।
এরপর ঝিকরগাছা থানার পুলিশও লাউজানি বাজারে তাদের মাইক্রোবাস ও বাস আটকিয়ে দেয়। আবুল হাসান জহির বলেন এরপরেও তার সাথে থাকা শ শ নেতাকর্মী পায়ে হেঁটে ও লোকাল বাসযোগে রোডমার্চ কর্মসূচিতে অংশ নেন। তিনি বলেন গত মঙ্গলবার রাতে নিজামপুর, ডিহি ও গোগা বাজারে বিএনপির প্রায় অর্ধশত নেতাকর্মীকে মারধর করেছে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা। খবর পেয়ে আহতদের শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান ও তাদের চিকিৎসার খোঁজ খবর নেন বলে জানান।
এ ব্যাপারে শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ এস এম আকিকুল ইসলাম জানান, এসব ঘটনা থানা পুলিশকে কেউ জানায়নি। তবে এ ব্যাপারে কেউ অভিযোগ করলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।