রেন্টু চাকলাদার ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে ৩১ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলা

0
জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু ও তার স্ত্রী শামীমা শারমিন।। ছবি: সংগৃহীত।

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু ও তার স্ত্রী শামীমা শারমিনের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সোয়া ৩১ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কার্যালয়ে আলাদা দুটি মামলা হয়েছে।

বুধবার দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় যশোরের সহকারী পরিচালক মো. আল-আমীন মামলাটি দুটি করেছেন। দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় যশোরের উপপরিচালক মো. সালাহউদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আসামি জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু ও শামীমা শারমিন যশোর শহরের পুরাতন কসবার শহীদ মশিয়ুর রহমান সড়কের বাসিন্দা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এই দম্পতি আত্মগোপনে চলে যান।

জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টুর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আল-আমীন উল্লেখ করেছেন, পৌরসভার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে নিজ ক্ষমতার অপব্যবহার করে ও নিজে লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় নেন। তিনি নিজের কোম্পানির নামে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ ২৪ কোটি ৫৮ লাখ ৪৫ হাজার ২২১ টাকা অর্জন করে নিজে ভোগদখল করছেন। যা দুর্নীতি দমন কমিশন আইন-২০০৪ এর ২৭(১) ধারা তৎসহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

শামীমা শারমিন ও জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টুর বিরুদ্ধে করা আরেকটি মামলায় সহকারী পরিচালক মো. আল-আমীন উল্লেখ করেছেন,আসামি জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টুর স্ত্রী শামীমা শারমিন ১৫ লাখ ৩০ হাজার ৮শ টাকার স্থাবর ও ১ কোটি ৬৪ লাখ ৪২ হাজার ৫৩২ টাকার অস্থাবর অর্থাৎ মোট ১ কোটি ৭৯ লাখ ৭৩ হাজার ৩৩২ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন বলে তথ্য পাওয়া যায়।

তার পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় ২৮ লাখ ৬৮ হাজার ৭১২ টাকা। ব্যয়সহ তার মোট সম্পদের পরিমাণ ২ কোটি ৮ লাখ ৪২ হাজার ৪৪ টাকা। ওই সময়ে শামীমা শারমিনের ১ কোটি ৭৬ লাখ ৬৪ হাজার ২৫৬ টাকার বৈধ আয় পাওয়া যায়। আসামি শামীমা শারমিন জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ ৩১ লাখ ৭৭ হাজার ৭৮৮ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন।

শেয়ার অনুপাতে শামীমা শারমিনের কোম্পানির নামের মোট সম্পদ ১৮ কোটি ৫৭ লাখ ২০ হাজার ৪৯৯ টাকা।

কোম্পানি হতে তার মোট আয় ৪৫ লাখ ৯৬ হাজার ৫৭২ টাকা। শেয়ার অনুপাতে তার কোম্পানির নামে লোনের পরিমাণ ১১ কোটি ৭০ লাখ ৯২ হাজার ২৬২ টাকা। লোন বাদে কোম্পানিতে তার নিট সম্পদের পরিমাণ ৬ কোটি ৮৬ লাখ ২৮ হাজার ২৩৭ টাকা। কোম্পানিতে তার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের পরিমাণ ৬ কোটি ৪০ লাখ ৩১ হাজার ৬৬৫ টাকা।

তিনি ব্যক্তিগত ও কোম্পানির ব্যবসায় জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ ৬ কোটি ৭২ লাখ ৯ হাজার ৪৫৩ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন। যা নিজ ভোগ দখলে রেখে দুদক আইন-২০০৪ এর ২৭(১) ধারায় ও তার স্বামী আসামি জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু তাকে ওই অবৈধ সম্পদ অর্জনে সহায়তা করে দন্ডবিধির ১০৯ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।