সাতক্ষীরায় যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় রাজনৈতিক দল ও মানবাধিকার সংস্থার ক্ষোভ

0
সাতক্ষীরার দেবহাটায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ওয়াহিদুজ্জামান শামীমকে হাসপাতাল থেকে ছিনিয়ে নিয়ে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে রাজনৈতিক দল ও মানবাধিকার সংস্থা। তারা অবিলম্বে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে।। ছবি: সংগৃহীত

সাতক্ষীরায় যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও মানবাধিকার সংস্থা তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তারা অবিলম্বে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনে প্রশাসনের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবিও উত্থাপন করা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার বিকেলে ও রাতে দেবহাটায় দুই দফায় মারধরের শিকার হন ওয়াহিদুজ্জামান শামীম নামের এক যুবক। প্রথম দফায় পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করেছিল। কিন্তু পরবর্তীতে রাতে হামলাকারীরা হাসপাতাল থেকে তাঁকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে দ্বিতীয় দফায় বেদম মারধর করলে তাঁর মৃত্যু ঘটে।

ঘটনার পর এ বিষয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। আজ বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে দলটি বলেছে, ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে প্রকাশ্যে গণপিটুনি এবং পুলিশ উদ্ধার করার পর হাসপাতাল থেকে ছিনিয়ে নিয়ে হত্যার এ ধরনের ঘটনা দেশের আইনের শাসন ও সাধারণ নাগরিকের জানমালের ওপর মারাত্মক আঘাত। হাসপাতাল যদি একজন চিকিৎসাধীন আহত মানুষের জন্যও নিরাপদ স্থান না হয়, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়—এই প্রশ্ন তুলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এর জবাবদিহি চাওয়া হয়েছে।

এনসিপি আরও উল্লেখ করেছে, অভিযোগ সত্য হোক কিংবা মিথ্যা, কারোই আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে বিচার করার কোনো অধিকার নেই। নিহত ব্যক্তি মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন বলে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে যে দাবি করা হয়েছে, পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন অডিওর সত্যতা নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করে দলটি। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তার, হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যর্থতার জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং নিহত ব্যক্তির পরিবারের সার্বিক নিরাপত্তা প্রদানসহ মোট চার দফা দাবি জানিয়েছে এনসিপি।

এদিকে সাতক্ষীরার এই মর্মান্তিক ঘটনাকে ‘চরম বর্বরতা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে গণসংহতি আন্দোলন। দলটির প্রধান সমন্বয়কারী (ভারপ্রাপ্ত) দেওয়ান আবদুর রশিদ এবং নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান আজ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, উসকানি দিয়ে সাধারণ জনতাকে উত্তেজিত করা এবং চিকিৎসাধীন একজন মানুষকে হাসপাতাল থেকে বলপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে হত্যার মতো ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন একজন ব্যক্তিকে রক্ষা করতে না পারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের চরম ব্যর্থতার প্রমাণ। তাঁরা অবিলম্বে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি পুলিশের ভূমিকা ও হাসপাতালের নিরাপত্তাহীনতার বিষয়গুলো সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে পুরো ঘটনাটিকে মানুষের মানবিক মর্যাদা ও জীবনের মৌলিক অধিকারের প্রতি চরম অবজ্ঞা বলে উল্লেখ করেছে।

সংস্থাটি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠলে তাঁর বিচার করার সাংবিধানিক ও আইনি দায়িত্ব একমাত্র আদালত ও আইনানুগ কর্তৃপক্ষের। আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে কাউকে পিটিয়ে হত্যার অধিকার কোনো গোষ্ঠী বা ব্যক্তির নেই।

শামীমের মৃত্যুর এই ঘটনার একটি নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত নিশ্চিত করে এর সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনার জোরালো দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে নিহত ব্যক্তির পরিবারের সার্বিক নিরাপত্তা এবং যথাযথ আইনি সহায়তা নিশ্চিত করার জন্য জোরালো আহ্বান জানিয়েছে এইচআরএসএস।