প্রতিমন্ত্রী শাহে আলমকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে গ্রেপ্তার সাংবাদিকের জামিন

0
সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলায় গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার সাংবাদিক রেজানুর ইসলাম (চিত্রে লাল শেপে আবদ্ধ ব্যক্তি) জামিন পেয়েছেন।। ছবি: সংগৃহীত

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে জড়িয়ে অপপ্রচার ও মানহানিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে দায়ের করা মামলায় কারাগারে থাকা দৈনিক ‘অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মো. রেজানুর ইসলামের জামিন মঞ্জুর হয়েছে। আজ রোববার বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-১ (সদর আমলি আদালত) আদালতের বিচারক মেহেদী হাসান এই জামিন আদেশ দেন। বগুড়া আদালতের পরিদর্শক শহিদুল ইসলাম জামিন মঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, আজ দুপুর পৌনে ১২টার দিকে রেজানুর ইসলামের জামিনের আবেদন নিয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। আসামিপক্ষের আইনজীবী তানজীম আল মিসবাহর আবেদনের বিপরীতে শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন বাদীপক্ষের আইনজীবী ও শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওহাব। শুনানির সময় বাদীপক্ষের আইনজীবী আদালতকে জানান, ভুল–বোঝাবুঝি থেকে এই মামলাটি হয়েছিল। ইতিমধ্যে দুই পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে আপস–মীমাংসা ও মামলার শান্তিপূর্ণ সমাধান হয়েছে এবং খোদ বাদীপক্ষও কারাগারে থাকা আসামির জামিন প্রার্থনা করছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী আবদুল ওহাব জানান, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এই মামলার বিষয়ে পূর্বে কিছুই জানতেন না এবং এর সাথে তাঁর কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। সম্পাদক রেজানুর ইসলাম গ্রেপ্তার হওয়ার উদ্ভূত ঘটনায় প্রতিমন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং তাঁর নাম ব্যবহার করে বা তাঁর পক্ষে দাবি করে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কোনো মামলা, বিবৃতি বা অন্য কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার জন্য ইতিমধ্যে এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন। প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশেই মূলত দুই পক্ষের সমঝোতার পর এই জামিনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

এর আগে, গত বুধবার রাতে স্থানীয় দৈনিক ‘মহাস্থান’ পত্রিকার সম্পাদক ও বগুড়া প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ তানভীর আলম বাদী হয়ে বগুড়া সদর থানায় রেজানুর ইসলামসহ ছয় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইন ও চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা করেন। সেই মামলার জেরে গত বৃহস্পতিবার রাতে বগুড়া জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) গাজীপুরের জয়দেবপুর এলাকা থেকে রেজানুরকে গ্রেপ্তার করে। রেজানুর জয়দেবপুর এলাকার বসুরা গ্রামের বাসিন্দা। এরপর গত শুক্রবার বিকেলে তাঁকে আদালতে হাজির করা হলে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল মামুন আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন।