রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: রুমিন ফারহানাসহ ছয় সংসদ সদস্যের ভোটদান থেকে বিরত থাকার নেপথ্য কারণ

0
ছবিতে উপরে বাঁ থেকে রুমিন ফারহানা, মির্জা আব্বাস ও ওসমান ফারুক; নিচে বাঁ থেকে মোস্তফা কামাল পাশা, আবুল হাসান ও গাজী নজরুল ইসলাম ।। ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে আয়োজিত দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানাসহ মোট ছয়জন সংসদ সদস্য ভোট দেওয়া থেকে বিরত ছিলেন। চিকিৎসা, বিদেশে অবস্থান এবং রাজনৈতিক অবস্থানের ভিন্নতার কারণে তারা এতে অংশগ্রহণ করেননি বলে জানা গেছে।

নির্বাচনে অনুপস্থিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মির্জা আব্বাস ও মোস্তফা কামাল পাশা চিকিৎসার জন্য বিদেশে অবস্থান করছেন। এছাড়া খেলাফত মজলিসের সংসদ সদস্য আবুল হাসান বিদেশে অবস্থান করায় এবং বিএনপির সংসদ সদস্য ওসমান ফারুক উপস্থিত না থাকায় ভোট দিতে পারেননি।

জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকেও এই ভোটগ্রহণে দেখা যায়নি। অপরদিকে, আইনি প্রক্রিয়ায় পদ বাতিল হওয়ায় বিএনপির আসলাম চৌধুরী এই নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি, যার ফলে সংরক্ষিত নারী আসনসহ মোট ৩৪৯ জন ভোটার নির্ধারিত হয়।

ভোটদানে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত সম্পর্কে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে নির্বাচিত স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা নির্বাচনকে ‘অর্থহীন ও প্রহসন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি তাঁর এই অবস্থানের পেছনে ৩টি প্রধান কারণ ব্যক্ত করেন:

“আমার কাছে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে অর্থহীন মনে হয়েছে। কারণ, ভোটে অনিশ্চয়তা না থাকলে সেটা কোনো নির্বাচন নয়। এই ভোটের ফলাফল কী, তা সবার জানা। তাহলে এটাকে ভোট কেন বলব। সুতরাং এটা মনোনয়ন, নির্বাচন নয়।” — রুমিন ফারহানা, স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য

তাঁর মতে, গণ-অভ্যুত্থানের পর একজন অরাজনৈতিক ও সর্বজনগ্রাহ্য ব্যক্তিকে মনোনীত না করা এবং নির্বাচনের আগে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কঠোর প্রয়োগ সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের কারণেই তিনি ভোটাধিকার প্রয়োগ করেননি।

উল্লেখ্য, ভোটের দিন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের একমাত্র সংসদ সদস্য মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহর ভোট বর্জনের কথা দলীয় বিবৃতিতে জানানো হলেও পরবর্তীতে তিনি ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।