যুদ্ধের প্রস্ততি চীনের,সীমান্তে সেনা বাড়িয়েছে ভারত

0

 

লোকসমাজ ডেস্ক ।। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির অরুণাচল রাজ্যের সীমান্তে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন। অপরদিকে সীমান্তে সেনা বাড়িয়েছে ভারত। এনডিটিভির দাবি, ম্যাক্সার স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া চিত্র থেকে দেখা গেছে, অরুণাচলের প্রতিবেশী তিব্বতের একটি বিমানঘাঁটিতে চীন বিপুল সংখ্যক ড্রোন এবং যুদ্ধবিমান মজুত করেছে।
অরুণাচলের তাওয়াং সেক্টরে গত শুক্রবার (৯ ডিসেম্বর) চীন ও ভারতের সৈন্যদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে দুপক্ষেরই সেনারা আহত হন। ওই ঘটনার সপ্তাহ খানেকের মধ্যেই এ দাবি করা হলো। ম্যাক্সার স্যাটেলাইটে ধারণ করা ছবি থেকে দেখা গেছে, চীনের সশস্ত্র বাহিনী তিব্বতের বাগডা বিমানঘাঁটিতে ডব্লিউজেড-৭ মডেলের ‘উড়ন্ত ড্রাগন’ নামে বেশ কয়েকটি ড্রোন মজুত করেছে। ২০২১ সালে চীন এ ড্রোনগুলো প্রথম ব্যবহার করতে শুরু করে। এগুলোর বিশেষত্ব হলো, টানা ১০ ঘণ্টা উড়তে পারে। ড্রোনগুলো নজরদারি এবং তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম। এমনকি এ ড্রোনগুলো প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট অবস্থানে থাকা ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রকে হামলার নির্দেশও দিতে পারে। অপরদিকে, পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ অরুনাচলে চীনের সাথে বিবাদপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় সেনা সংখ্যা নজিরবিহীনভাবে বাড়িয়েছে ভারত। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এই খবর দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, চীনকে সীমান্তের স্থিতাবস্থা ‘একতরফাভাবে পরিবর্তন’ করতে দেবে না ভারত। গত ৯ ডিসেম্বর অরুণাচল প্রদেশ রাজ্যের বিতর্কিত সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় ও চীনা সৈন্যদের মধ্যে সংঘর্ষের পর জয়শঙ্কর এমন মন্তব্য করেছেন বলে মঙ্গলবার বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ভারত বলেছে, চীনা সৈন্যদের ভারতীয় ভূখন্ড দখলে নেওয়ার চেষ্টার সময় ওই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছিল।
এদিকে, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, তাদের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী— সীমান্ত পরিস্থিতি সাধারণভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। আর উভয়পক্ষ এই সমস্যার ব্যাপারে আলোচনা করছে। ভারত এবং চীনের মাঝে প্রায় ৩ হাজার ৪৪০ কিলোমিটার বিতর্কিত সীমান্ত রয়েছে। যেখানে উভয় দেশের সৈন্যরা প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলএসি) নামে পরিচিত ডি ফ্যাক্টো সীমান্তে যেকোনও ধরনের আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার এড়াতে দীর্ঘদিনের প্রোটোকল মেনে চলেন। কিন্তু বিতর্কিত এই সীমান্ত এলাকায় চীন-ভারতের সৈন্যরা প্রায়ই সংঘাতে জড়িয়ে পড়েন।