যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল: স্বাভাবিক মৃত্যুর শিকার দুলাশ মর্গে আইনি জটিলতায় স্বজনদের ভোগান্তি

0

স্টাফ রিপোর্টা ॥ স্বাভাবিক মৃত্যুর শিকার দু’জনকে গতকাল যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে মর্গে পাঠানো হয়েছে। এর ফলে মৃতদের স্বজনদের লাশ বাড়িতে নেয়া নিয়ে আইনগত ঝামেলায় পড়েছেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শিলা বেগম (২১) নামে এক গৃহবধূকে চিকিৎসার জন্য তার মাতা-রাশিদা বেগম যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনেন। দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক শাহীনুর রহমান শিলা বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন এবং স্বজনদের লাশ না দিয়ে মর্গে পাঠান। মাতা রাশিদা বেগম জানান, তার কন্যা এক সপ্তাহ ধরে প্রচন্ড জ্বরে ভুগছিল। মাঝে মাঝে বমি করছিল। বিষ খাওয়া কিংবা অন্য কোন কারণে তার মৃত্যু হয়নি। অসুস্থ হয়েই শিলা বেগমের মৃত্যু হয়েছে। মৃত শিলা বেগম ঝিকরগাছা উপজেলার রাজবাড়িয়া গ্রামের মো. সাগরের স্ত্রী। একই ঘটনা ঘটেছে রিনা বেগমের ক্ষেত্রে। রিনা বেগম (৫৬) যশোর সদর উপজেলার পাগলাদাহ গ্রামের মনসের আলীর স্ত্রী। তার ছেলে ইকবাল হোসেন দুপুর ১টা ৫৮ মিনিটে রিনা বেগমকে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। তখন কর্তব্যরত চিকিৎসক রিনা বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন। দুটি মরদেহ হাসপাতালের খাতায় ‘বহনকৃত মৃত’ দেখিয়ে নাম ঠিকানা লেখা হয়। তবে মন্তব্যের ঘরে কোন মন্ত্য না করে শূন্য রাখা হয়। মৃত ঘোষণার পর লাশ পাঠিয়ে দেয়া হয় মর্গে। ইকবাল হোসেন বলেছেন, তার মা হৃদ রোগে মারা গেছেন। বিষপান, গলায় দঁড়ি, সড়ক দুর্ঘটনা, কিংবা কোন অপঘাতে তার মৃত্যু হয়নি। তিনি অসুস্থ ছিলেন। হাসপাতালে নিয়োজিত এএসআই মো. আবু সালেহর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলতে পারেননি তাদের অপমৃত্যু হয়েছে কিনা। অথচ চিকিৎসক মো. শাহীনুর রহমান সোহাগ মৃত্যুর পর দু’টি লাশই হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়ে দিয়েছেন। সড়ক দুর্ঘটনা, প্রতিপক্ষের হাতে নিহত গলায় ফাঁস কিংবা বিষপানে যাদের মৃত্যু হয়ে থাকে তাদের অপমৃত্যুর কারণ নির্ণয় করার জন্য লাশ জরুরি বিভাগ হতে পাঠানো হয় মর্গে। অথচ অসুস্থজনিত কারণে মৃত্যুবরণকারী দুজনের লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। অসুস্থজনিত কারণে কারো মৃত হলে জরুরি বিভাগ থেকে মৃত সনদ দিয়ে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করার কথা। কিন্তু শিলা খাতুন ও রিনা বেগমের স্বজনরা এ সুযোগ পাননি। ফলে মর্গের ভেতর লাশ রেখে তাদের আর্তনাদ করতে হয়েছে। চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হয়েছে স্বজনদের।
সূত্র জানিয়েছেন, মর্গে লাশ পাঠানো হলে সেখান থেকে সহজে লাশ নেয়া যায় না। আইনগত প্রসেস রক্ষা করে লাশ নিতে হয়। জেলা প্রশাসক কিংবা জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি, থানার ওসিও মামলার আইও’র সম্মতিক্রমে লাশ নিতে হয়। তাতে অনেক সময় লেগে যায়। এতে মৃতের স্বজনরা চরম দুর্ভোগের শিকার হন। শিলা বেগম ও রিনা বেগমের মৃত্যুর ঘটনায় এ দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন, তাদের শোকার্ত স্বজনরা তারা জানিয়েছেন, কর্তব্যরত ডাক্তার যদি লাশ মর্গে না পাঠিয়ে মৃত্যুর সনদসহ লাশ দিতেন, তাহলে তাৎক্ষণিক বাড়িতে নিয়ে লাশের দাফন কাজ সম্পন্ন করা যেত। কিন্তু চিকিৎসক কোন কিছু না জেনে লাশ মর্গে পাঠানোর ফলে মর্গের সামনে বসে শোকতাপ করতে হচ্ছে। এমন ঘটনা প্রায়ই ঘটে থাকে। শোকার্তরা এ ঘটনায় চিকিৎসকের দায়িত্বহীনতা ও অদূরদর্শিতা বলে মন্তব্য করেছেন। এ ব্যাপারে কর্তব্যরত ডা. শাহীনুর রহমান সোহাগের সাথে আলাপকালে বের হয়ে আসে আরেক ঘটনা। তিনি বলেন, গতকাল বিকেল ৩টা পর্যন্ত তার জরুরি বিভাগে ডিউটি ছিল। এ সময় একজনের লাশ মর্গে পাঠিয়েছেন। তবে তার নাম মনে নেই। তার হাতে ব্যথা ছিল। গ্রাম্য ডাক্তারদের কাছ থেকে ইনজেকশন নিয়েছে। সে জন্য এটা অপমৃত্যু হতে পারে ভেবে লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। তবে মর্গে পাঠানো অপর লাশটি সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না। কে পাঠিয়েছে তাও জানেন না।