যশোর-ঢাকা প্রভাতী ট্রেনসহ ৬ দফা দাবিতে ফের আন্দোলনের ঘোষণা

জুনের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে ৬ জুলাই অবস্থান কর্মসূচি

0
ছবি: লোকসমাজ।

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর-ঢাকা রুটে প্রভাতী আন্তঃনগর ট্রেন চালুসহ ছয় দফা দাবি বাস্তবায়নে ফের আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিয়েছে বৃহত্তর যশোর রেল যোগাযোগ উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটি। আগামী জুন মাসের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে জুলাই মাস থেকে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংগঠনের নেতারা। একইসঙ্গে আগামী ৬ জুলাই যশোর রেলওয়ে জংশনে অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

রোববার (২৪ মে) সকালে যশোর রেলওয়ে জংশন প্লাটফর্মে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগ্রাম কমিটির সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার রুহুল আমিন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের আহ্বায়ক ও জাতীয় হকি কোচ কাউসার আলী, উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদ, যুগ্ম আহ্বায়ক জিল্লুর রহমান ভিটু, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ, সদস্য সচিব মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, সংগঠনের নেতা হারুন অর রশিদ, তসলিম-উর-রহমান, দিপংকর দাস রতন, অধ্যক্ষ শাহীন ইকবাল, মোস্তাফিজুর রহমান কবির, হাবিবুর রহমান মিলন, অধ্যক্ষ এস ইকবাল লিপন ও পলাশ বিশ্বাস প্রমুখ।

লিখিত বক্তব্যে ইঞ্জিনিয়ার রুহুল আমিন বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের আওতায় যশোরবাসী একটি ট্রেন পেলেও সেটি মানুষের চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। বর্তমানে ট্রেনটি সকাল ১০টার দিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে যশোরে আসে এবং বিকেলে আবার যশোর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।

ফলে যশোরের যাত্রীরা সকালে ঢাকায় গিয়ে দিনের কাজ শেষে রাতে ফিরে আসার সুযোগ পাচ্ছেন না।
তিনি বলেন, যশোরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল, ভোরে যশোর থেকে একটি ট্রেন ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে এবং সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে যশোরে ফিরবে।

এতে চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীরা সহজেই একদিনে ঢাকায় যাতায়াত করতে পারবেন। এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে রেল সচিব ও বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) ২০২৬ সালের মার্চ-এপ্রিলের মধ্যে নতুন প্রভাতী ট্রেন চালুর আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হলেও সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়নি।

এ অবস্থায় আগামী জুন মাসের মধ্যে প্রতিশ্রুত ট্রেন চালু না হলে জুলাই মাস থেকে বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে যশোরবাসী বলে জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে ছয় দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, বেনাপোল বা দর্শনা সীমান্ত থেকে যশোর-নড়াইল-পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকা রুটে একটি প্রভাতী আন্তঃনগর ট্রেন চালু এবং একই রুটে আরও দুটি আন্তঃনগর ট্রেন সংযোজন, সকল আন্তঃনগর ট্রেনে সাধারণ বগি বৃদ্ধি, দর্শনা-খুলনা ও বেনাপোল-যশোর রুটে ডাবল রেললাইন চালু, বেনাপোল বা দর্শনা সীমান্ত-যশোর-ঢাকা রুটে কমিউটার ট্রেন চালু, সিঙ্গিয়া রেলস্টেশনে রেল কনটেইনার টার্মিনাল স্থাপন এবং রেলকে দেশের প্রধান যোগাযোগমাধ্যম হিসেবে গড়ে তুলতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ।

সংবাদ সম্মেলনে নেতারা বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের যাতায়াত ও ব্যবসা-বাণিজ্যের অন্যতম কেন্দ্র যশোর। বিশেষ করে বেনাপোল স্থলবন্দরকে ঘিরে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ যাতায়াত করেন। কিন্তু পর্যাপ্ত ট্রেন ও অবকাঠামোর অভাবে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

এ সময় যশোর-ঢাকা রুটে নতুন ট্রেন চালুর দাবিতে রেলওয়ে মন্ত্রণালয়ে ডিও লেটার দেওয়ায় যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বিদ্যুৎ, জ্বালানি এবং খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে ধন্যবাদ জানান ইঞ্জিনিয়ার রুহুল আমিন।