যশোর চাকরি মেলায় উপচে পড়া ভিড়, ১,৫০০ পদের বিপরীতে কয়েক হাজার প্রত্যাশী

0
ছবি: লোকসমাজ।

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ) আয়োজিত চাকরি মেলায় হাজার হাজার চাকরিপ্রত্যাশীর ঢল নামে। ১ হাজার ৫০০ চাকরির সুযোগকে কেন্দ্র করে প্রায় ১০ হাজার যুবক-যুবতীর উপস্থিতি কর্মসংস্থান সংকট ও বেকারত্বের বাস্তব চিত্রকে সামনে নিয়ে এসেছে।

যশোর পিটিআই প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ চাকরি মেলার প্রতিপাদ্য ছিল “ক্যারিয়ার হোক ক্ষুদ্রঋণ সেক্টরে, অবদান হোক দেশের উন্নয়নে”। ক্ষুদ্রঋণ খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং চাকরিপ্রত্যাশীদের সঙ্গে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যকর সংযোগ স্থাপনের লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হয় বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।

মেলা উপলক্ষে পিটিআই মিলনায়তন ঘিরে ক্ষুদ্রঋণ খাতের ৩৬টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের স্টল স্থাপন করা হয়।

শনিবার সকাল ৯টা থেকেই চাকরিপ্রত্যাশী নারী-পুরুষের উপস্থিতিতে মেলা প্রাঙ্গণ মুখর হয়ে ওঠে। তবে সকাল ১০টার মধ্যেই কর্মপ্রার্থীদের সংখ্যা প্রায় ১০ হাজারে পৌঁছালে পুরো এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

প্রার্থীদের উপচে পড়া ভিড়ে একপর্যায়ে পরিস্থিতি আয়োজকদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। আবেদনপত্র জমা দেওয়ার জন্য স্টলগুলোর সামনে দীর্ঘ সারি ও ধাক্কাধাক্কির সৃষ্টি হলে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে আয়োজকরা সাময়িকভাবে আবেদনপত্র গ্রহণ কার্যক্রম বন্ধ করে দেন।

পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যেসব প্রতিষ্ঠানের স্টলে অতিরিক্ত ভিড় হয়েছে তারা নিজ নিজ কার্যালয়ে আবেদনপত্র গ্রহণ করবে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছিল জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন, আরআরএফ, আদ্-দ্বীন এবং শিশু নিলয়সহ কয়েকটি সংস্থা।

মেলার উদ্বোধন করেন মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। সকাল ১০টায় বেলুন উড়িয়ে তিনি মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

আয়োজকদের ভাষ্য, বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলা এ মেলার মাধ্যমে প্রায় ১ হাজার ৫০০ জনকে চাকরির সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে কয়েক হাজার তরুণ-তরুণীর উপস্থিতি আবারও প্রমাণ করেছে, দেশে শিক্ষিত ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর বড় একটি অংশ এখনো কাঙ্ক্ষিত কর্মসংস্থানের অপেক্ষায় রয়েছে।

একটি চাকরির আশায় সকাল থেকেই হাজারো মানুষের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা বর্তমান শ্রমবাজারের চ্যালেঞ্জ এবং বেকারত্বের চাপেরই প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।