যশোর ও কেশবপুরে ইউপি নির্বাচন আজ: নৌকার ভয় স্বতন্ত্রে, স্বতন্ত্র চায় পক্ষপ্তহীন প্রশাসন

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ আজ পঞ্চম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। খুলনা বিভাগের ৭১ টিসহ সারাদেশের ৭০৭ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এরমধ্যে যশোর সদর উপজেলায় ১৫ টি ও কেশবপুরে ১১ টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। যশোর সদর ও কেশবপুর নির্বাচনে সহিংসতার আশংকা করা হচ্ছে। এই দুই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ভোটের আগে প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও সহিংস ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে সরকার দলীয় মনোনীত প্রার্থীরা স্বতন্ত্রপ্রার্থীদের কোনঠাসা করে আসছেন। এক্ষেত্রে পুলিশের ভুমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ ছিলো। এতে সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে ভোটার ও স্বতন্ত্রপ্রার্থীদের মাঝে উদ্বেগ-উৎকন্ঠা রয়েছে। তবে জেলা ও পুলিশ প্রশাসন বলছে, নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহনযোগ্য করে তুলতে তারা জিরো টলারেন্সে রয়েছে। কোনো বলপ্রয়োগ বা অনিয়ম বরদাসত করা হবেনা বলেও পুলিশের পক্ষ থেকে হুশিয়ারি দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, যশোর সদর ও কেশবপুর উপজেলায় মোট ২৬ টি ইউনিয়নে মোট এক হাজার পাঁচ শত ত্রিশ জন প্রার্থী রয়েছে। ছয় লাখ সাত হাজার ছয়শ’ ৯৬ জন ভোটারের ভোটাধিকার তাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করার জন্য ভোট প্রয়োগ করবেন। নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে পাঁচ হাজার তিনশ’ ৪১ জন কর্মকর্তা দায়িত্বপালন করবেন। তিনশ’ ১৯ টি কেন্দ্রে এক হাজার ছয়শ’ ৭৪ টি কক্ষে ভোটগ্রহণ হবে বলে তিনি জানান।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে যশোর সদর উপজেলার ১৫ টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান, মহিলা মেম্বার ও পুরুষ মেম্বার প্রার্থী মিলিয়ে নয়শ’ ৬৭ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরমধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৮১, সংরক্ষিত মেম্বার পদে একশ’ ৮৫ ও সাধারণ মেম্বার পদে সাতশ’ একজন প্রার্থী রয়েছে। আর কেশবপুরের ১১ টি ইউনিয়নে মোট পাঁচশ’ ৬৩ জন প্রার্থী রয়েছে। এদের মধ্যে চেয়ারম্যান প্রার্থী ৪৮, সংরক্ষিত ওয়ার্ডে একশ’ ২২ ও সাধারণ ওয়ার্ডে তিনশ’ ৯৩ জন প্রার্থী রয়েছেন। যশোর সদরে মোট প্রিজাইডিং কর্মকর্তা রয়েছেন দুশ’ ১৫ জন। সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে এক হাজার একশ’ ৬৬ জন এবং পোলিং অফিসার হিসেবে দু’হাজার তিনশ’ ৩২ জনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এরমধ্যে সদর উপজেলার একমাত্র নওয়াপাড়া ইউনিয়নে ইভিএমে ভোটগ্রহণ হবে বলে জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানাগেছে।
এদিকে আজকের নির্বাচনকে ঘিরে যশোর সদর ও কেশবপুর উপজেলার ২৬ টি ইউনিয়নের স্বতন্ত্রপ্রার্থীরা সুষ্ঠু ভোট নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এই দুই উপজেলার আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থীর বিরুদ্ধে যারা ভোট করছেন তাদের ভোটাররা নির্বিঘেœ ভোট কেন্দ্রে যেতে পারবেন কীনা তা নিয়ে সংশয়ে আছেন তারা। স্বতন্ত্রপ্রার্থীদের দাবি সরকার দলের মনোনীত প্রার্থীরা নির্বাচনে জিততে পারবেনা এমন ভয়ে তারা নানাভাবে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীদের ভোটার ও সমর্থকদের হয়রানি করে আসছে। সদর উপজেলার চাঁচড়া ইউনিয়ন পরিষদের স্বতন্ত্রপ্রার্থী শামীম রেজা বলেন, আমার ইউনিয়নে সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে কীনা তা নিয়ে আশঙ্কায় আছি। আমার প্রতিদ্বন্দ্বি নৌকার প্রার্থী প্রশাসন ও তার ক্যাডার বাহিনী দিয়ে ভোটারদের ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছে। ভোটাররা যাতে ভোটকেন্দ্রে যেতে না পেরে সেজন্য হুমকি দিচ্ছে। তিনি বলেন, ভোটাররা যদি নির্বিঘেœ ভোটকেন্দ্রে যেতে পারে তাহলে আমার বিজয় কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না।
একই কথা বলেন, আরবপুর ইউনিয়ন পরিষদের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যানপ্রার্থী কাজী কাসেম। তিনি বলেন, নৌকার প্রার্থী মীর রহমান পরাজয় নিশ্চিত ভেবে প্রশাসন ও তার ক্যাডার বাহিনী দিয়ে ভোটারদের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। এ অবস্থায় আমি প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ ভুমিকা প্রত্যাশা করছি। তিনি বলেন, আরবপুর ইউনিয়নে ভোটাররা আমার পক্ষে একাট্টা। তার ভোটকেন্দ্রে গেলে আমি বিজয়ী হবো আশা করছি। এ অবস্থায় তিনি আজকের নির্বাচনের দিন প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তবে এ বিষয়ে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে নির্বাচনে কোনো প্রকার অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা হবেনা। যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, নির্বাচনের প্রচারণা চলাকালীন গত কয়েকদিন কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও পুলিশ তাৎক্ষনিক তা প্রতিহত করেছে। তবে আজকের নির্বাচনকে ঘিরে প্রতিটি এলাকায় অতিরিক্ত ফোর্স নিযুক্ত করা হয়েছে, মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন সিনিয়র অফিসারগণ। তারা নজরদারি করছেন ওই সব এলাকা। এছাড়া অনেকগুলো মোবাইল টিম নামানো হয়েছে, তারা তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নেবে।
এছাড়া জেলা গোয়েন্দা শাখা ডিবি পুলিশের একাধিক টিম মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে। নির্ভয়ে ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে সে ব্যবস্থা করা হয়েছে। জেলা সিনিয়র নির্বাচন অফিসার, মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব, আনসারসহ ভ্রাম্যমান আদালত দায়িত্বপালন করবেন। কোথাও অনিয়ম হলে সেখানে রুখে দেয়া হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ বা অধিক ঝুঁকিপূর্ণ বলে কোনো বিষয় দেখছিনা। যেখানে যে অবস্থা সেখানে সে ব্যবস্থা নেয়া হবে । নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিটি কেন্দ্রে ব্যালটপেপার ভোটের দিন সকালে কেন্দ্রে কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে পৌঁছে দেয়া হবে বলে তিনি জানান। ইতোমধ্যে চার ধাপের ইউপি ভোট সম্পন্ন করেছে ইসি। ৫ জানুয়ারি পঞ্চম ধাপের পর ষষ্ঠ ধাপের ভোট হবে ৩১ জানুয়ারি। আর সপ্তম ধাপে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ করবে ইসি।