যশোর এমএম কলেজে বহিরাগতকে গণপিটুনি, গভীর রাতে উত্তেজনা

0
ছবি: সংগৃহীত।

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন (এমএম) কলেজ ক্যাম্পাসে গভীর রাতে মোটরসাইকেল নিয়ে প্রবেশ করে শিক্ষার্থীদের চাকু দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে নাইমুল হাসান চন্দন নামে এক বহিরাগত যুবককে গণপিটুনি দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। আহত ওই যুবক শহরের শেখ শাহাজাহান আলীর ছেলে বলে জানাগেছে। সে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলো বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার গভীর রাত পর্যন্ত কলেজ ক্যাম্পাস, যশোর জেনারেল হাসপাতাল চত্বর ও শহরের দড়াটানা এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে অভিযুক্তের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা।

প্রত্যক্ষদর্শী ও শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার রাত প্রায় ১১টার দিকে নাইমুল হাসান চন্দন নামে ওই যুবক মোটরসাইকেলে এক সহযোগীকে নিয়ে এমএম কলেজের আসাদ হলের সামনে আসেন। এ সময় গভীর রাতে ক্যাম্পাসে প্রবেশের কারণ জানতে চাইলে তার সঙ্গে কয়েকজন শিক্ষার্থীর কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তিনি চাকু বের করে শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, এ সময় তিনি কলেজে আধিপত্য বিস্তারসংক্রান্ত বিভিন্ন মন্তব্যও করেন।

ঘটনার জেরে মুহূর্তেই ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাকে আটক করে মারধর করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ওই রাতেই যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ছবি: সংগৃহীত।

ঘটনার পর রাত ১২টার দিকে আসাদ হলের সামনে থেকে শতাধিক শিক্ষার্থী বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি ক্যাম্পাস থেকে জেনারেল হাসপাতাল চত্বর পর্যন্ত গিয়ে শেষ হয়। রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত হাসপাতাল চত্বর, দড়াটানা ও আশপাশের এলাকায় শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিয়ে দফায় দফায় প্রতিবাদ মিছিল করেন।

বিক্ষোভে এমএম কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বিল্টু, সহসভাপতি সরোয়ার হোসেন, ছাত্রশিবিরের নেতা লিখন ও ইব্রাহিম, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা সোইয়াব আক্তারসহ বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মী এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

এমএম কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বিল্টু অভিযোগ করেন, চন্দন অতীতে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং ছাত্রলীগের নাম ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছেন। সম্প্রতি আবারও তিনি বহিরাগতদের নিয়ে ক্যাম্পাসে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এদিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকা নাইমুল হাসান চন্দনকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। হাসপাতালের খাতায় তাকে পলাতক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

যশোর কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল বলেন, চন্দনকে শনিবার রাত ১২ টার দিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও ওই রাতেই সে চিকিৎসকদের না জানিয়ে পালিয়ে গেছে বলে জানাগেছে। প্রাথমিক তদন্তে চন্দনের অতীতে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে বলে তিনি জানান।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খান বলেন, ‘অপরাধী যেই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’