অব্যবস্থাপনার কারণে বৃষ্টির পানিতে ক্ষতি হচ্ছে আমদানি পণ্যের

0
ছবি: সংগৃহীত।

বেনাপোল (যশোর) সংবাদদাতা ॥ বেনাপোল স্থলবন্দরে বৃষ্টির পানি জমে আমদানিকৃত পণ্য ভিজে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটে। অব্যবস্থাপনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন আমদানিকারক ও রফতানিকারকরা।

টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণে স্থলবন্দর বেনাপোলে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র জলাবদ্ধতা। বন্দরের বিভিন্ন শেড, ইয়ার্ড ও অভ্যন্তরীণ সড়কে হাঁটুসমান পানি জমেছে। আমদানিকৃত পণ্য ভিজে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীরা।

ভারতের সঙ্গে স্থলপথে আমদানি হওয়া উল্লেখযোগ্য পরিমাণ শিল্পকারখানার কাঁচামাল, গার্মেন্টস পণ্য, কেমিক্যাল, খাদ্যপণ্য, কাপড়সহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য এ বন্দর দিয়েই দেশে প্রবেশ করে। ব্যবসায়ীদের দাবি, এমন গুরুত্বপূর্ণ একটি বন্দরে আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় প্রতি বর্ষাতেই কোটি কোটি টাকার পণ্য ক্ষতির মুখে পড়ছে।

রোববার সরেজমিনে দেখা যায়, বন্দরের ৩ নম্বর গেটসংলগ্ন ১৪, ১৫, ১৬, ১৭ ও ১৮ নম্বর শেডের আশপাশে হাঁটুসমান পানি জমে রয়েছে। এছাড়া ৯ নম্বর শেডের ভেতরে সবচেয়ে বেশি পানি প্রবেশ করেছে। সেখানে নিচের সারিতে রাখা বন্ড সুবিধায় আমদানিকৃত বিভিন্ন শিল্পকারখানার কাঁচামাল, কাপড়, কেমিক্যাল ও অন্যান্য পণ্য পানিতে তলিয়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের দাবি, ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

বন্দর ব্যবহারকারীদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে ড্রেনগুলো ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হয়ে থাকায় বৃষ্টির পানি দ্রুত বের হতে পারেনি। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই পানি শেডে ঢুকে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গত তিন দিন ধরে পাওয়ার পাম্প ও শ্যালো মেশিন দিয়ে পানি অপসারণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। শনিবার বৃষ্টির তীব্রতা কম থাকায় কিছু এলাকায় পানি নামতে শুরু করেছে।

আমদানিকারক আমজাদ হোসেন বলেন, সামান্য বৃষ্টিতেই বেনাপোল বন্দর পানিতে ডুবে যায়। কোথাও হাঁটু, কোথাও কোমরসমান পানি জমে। ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাবে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার পণ্য নষ্ট হচ্ছে। ক্ষতির দায় ব্যবসায়ীদেরই বহন করতে হয়, অথচ বন্দর কর্তৃপক্ষ কোনো ক্ষতিপূরণ দেয় না।

বেনাপোল আমদানি রফতানি সমিতির সভাপতি মতিয়ার রহমান বলেন, বন্দর ব্যবহারকারী সংগঠনগুলো বহু বছর ধরে ড্রেনেজ সমস্যাসহ বিভিন্ন অব্যবস্থাপনার বিষয়টি তুলে ধরছে। কিন্তু কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতিবছর শতাধিক আমদানিকারক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই স্থলবন্দরে স্থায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।

তবে বেনাপোল স্থলবন্দরের উপ-পরিচালক কাজী রতন বলেন, টানা ভারী বৃষ্টির কারণে কয়েকটি শেডে পানি প্রবেশ করেছে এবং কিছু পণ্য ভিজেছে। পাওয়ার পাম্পের মাধ্যমে দ্রুত পানি অপসারণের কাজ চলছে। অবিরাম বৃষ্টির কারণে কাজ কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। বৃষ্টি কমে গেলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করছি।

তিনি আরও বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে স্থায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ রয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে।