যশোরে যুবককে হত্যার অভিযোগে পালিত পিতা মাতার বিরুদ্ধে মামলা

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরে মো. মুসা নামে এক যুবককে হত্যার অভিযোগে তার পালিত পিতা মাতাসহ ৩ জনকে আসামি করে রোববার আদালতে মামলা হয়েছে। মো. মুসার স্ত্রী সুরাইয়া খাতুন রুম্পা মামলাটি করেছেন। তিনি মনিরামপুর উপজেলার খেদাপাড়া গ্রামের শাহিন আলমের মেয়ে। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. মঞ্জুরুল ইসলাম অভিযোগ আমলে নিয়ে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পুলিশ সুপারকে আদেশ দিয়েছেন। অভিযুক্তরা হলেন-সদর উপজেলার তেঁতুলিয়া গ্রামের মৃত আমিন উদ্দিন মোল্যার ছেলে মশিয়ার রহমান, সাহেব আলী ও মশিয়ার রহমানের স্ত্রী বিলকিস বেগম।
সুরাইয়া খাতুন রুম্পা মামলায় উল্লেখ করেছেন, ২০২০ সালের ৯ জুলাই মুসার সাথে তার বিয়ে হয়। আসামি মশিয়ার রহমান ও বিলকিস বেগম পালিত পিতামাতা হওয়ায় সংসারকালে তারা মুসা ও রুম্পার সাথে খারাপ ব্যবহার করতেন। এরই মধ্যে মুসা ও রুম্পা বাড়ি নির্মাণের জন্য তাদের কাছে জমি দাবি করলে তারা ক্ষিপ্ত ওঠেন। এমনকী তারা মুসাকে হত্যার ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনা করতে থাকেন। বর্তমানে রুম্পা ৮ মাসের অন্তঃসত্বা। এরই সুযোগ নিয়ে উল্লিখিত আসামিরা তাকে মনিরামপুরের খেদাপাড়ায় পিতার বাড়িতে রেখে আসেন। সেখানে থাকাকালে রুম্পা স্বামীর সাথে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখতেন। গত ২ মার্চ সকালে উল্লিখিত আসামিরা পরস্পর যোগসাজসে মুসাকে বিষাক্ত দ্রব্য মিশ্রিত খাবার খেতে দেন। এই খাবার খাওয়ার সাথে সাথে মুসার পেটে প্রচ- ব্যথার সৃষ্টি হলে আসামিরা তাকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনালের হাসপাতালে নিয়ে আসেন। এ সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর আসামিরা মুসার লাশ বাড়িতে নিয়ে গিয়ে তড়িঘড়ি করে দাফন করেন। পরদিন রুম্পাকে তার স্বামীর মৃত্যুর খবরটি দেন আসামি মশিয়ার রহমান। এ খবর পেয়ে দুপুর দুটোর দিকে তেঁতুলিয়ায় ছুটে আসেন রুম্পা এবং তিনি আসামিদের কাছে মুসার লাশ তড়িঘড়ি করে দাফনের কারণ জানতে চান। কিন্তু তারা একেকজন একেক ধরনের জবাব দেওয়ায় এতে রুম্পার সন্দেহ হয়। পরে রুম্পা স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে খোঁজখবর জানতে পারেন, তার স্বামীর খাদ্যের মধ্যে বিষাক্ত ট্যাবলেট মিশিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে। তখন রুম্পা ও তার স্বজনেরা আসামিদের ওপর চাপ সৃষ্টি করলে তারা স্বীকার করেন যে, ওষুধের দোকান থেকে বিষাক্ত ট্যাবলেট এনে খাদ্যের সাথে মিশিয়ে তারা মুসাকে হত্যা করেছেন। এক পর্যায়ে আসামিরা ও তাদের লোকজন রুম্পাকে জীবননাশের হুমকি দিয়ে রুম্পাকে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেন। পরে রুম্পা এ ঘটনায় থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ তাকে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। এ কারণে আদালতের আশ্রয় নিয়েছেন রুম্পা।