যশোরে মহাসড়কের দুইপাশ দখল করে ইট-বালির ব্যবসা

0

 

আকরামুজ্জামান॥ যশোর শহরতলীর উপশহরে শিক্ষা বোর্ড সংলগ্ন ঢাকা রোডের ফুটপাত জুড়ে রমরমা ইট-বালি ও পাথরের ব্যবসা চলছে। যশোরের সাথে রাজধানীসহ দক্ষিণের জেলাগুলোর যোগাযোগের জন্যে গুরুত্বপূর্ণ এ ব্যস্ত সড়কের একাংশ দখল করে এ ধরনের ব্যবসা করে আসছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র। এতে প্রতিদিনই দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন সাধারণ পথচারীসহ যানবাহন।
উপশহর খাজুরা বাসস্ট্যান্ড চৌরাস্তা ট্রাফিক মোড় পার হয়ে সরকারি শিশু হাসপাতাল পার হলেই দেখা যাবে রাস্তার ওপর ইট, বালি, খোয়া ও সুরকির স্তুপ। অথচ প্রতিদিনই এই সড়ক দিয়ে ঢাকা-খুলনা, নড়াইল, সাতক্ষীরা, ঝিনাইদহসহ আশপাশের জেলায় যাতায়াতের জন্যে শ শ বাস-ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করে।
সড়কের এই অংশের বিপরীত দিকে যশোর শিক্ষা বোর্ডের অবস্থান। শিক্ষা বোর্ডের প্রাচীর ঘেঁষে রাখা হয়েছে ইট-বালি- খোয়া-পাথর। দুব্যক্তি এ ব্যবসা করছেন বলে সূত্র জানিয়েছে। প্রতিদিন এই তিনটি স্পট থেকে ট্রাক, পিকআপ, ভ্যান, নসিমন, করিমনে করে এসব নির্মাণ সামগ্রী আনা-নেয়ার কারণে সড়কটিতে দুর্ভোগ লেগেই থাকে। সামান্য বাতাস হলেই বালি, সুড়কি উড়ে মানুষের চোখেমুখে লেগে এক অস্বস্তিকর পরিবেশের সৃষ্টি। অথচ বছরের পর বছর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দখল করে এ ধরনের ব্যবসা চলে আসলেও এ নিয়ে কারো মাথাব্যথা নেই। স্থানীয়দের অভিযোগ, এ নির্মাণ সামগ্রীর ব্যবসার সাথে প্রভাবশালীরা জড়িত থাকায় কেউই তাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস পায়না।
এ ব্যাপারে ইট-বালি ব্যবসায়ী হাফিজুর রহমান বলেন, সড়কের পাশেই খোকন এন্টারপ্রাইজ নামে যে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে সেটি আমার নিজের। এ সুযোগে আমার দোকানের সামনেই কিছু ইট-বালি রেখে বিক্রি করে আসছি। এর কারণে যেন কোনো ধরনের জনদুর্ভোগ না হয় সেজন্যে অনেকটা সতর্কভাবে কাজ করা হয়। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত কেউই অভিযোগ করেন নি। তাছাড়া অন্যান্য জায়গাতেওতো এভাবে রাস্তার পাশে ইট-বালি বিক্রি হয়।
কথা হয়, সড়কের শিক্ষাবোর্ড প্রাচীর ঘেঁষে গড়ে ওটা ইট-বালি, পাথর ও খোয়া ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রাব্বী এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মশিয়ার রহমানের সাথে। তিনি বলেন, জায়গাটি শিক্ষা বোর্ডের সামনের দোকানদার তপনের। তার কাছ থেকে জায়গাটা ভাড়া নিয়ে সেখানে ইট-বালি ও খোয়ার ব্যবসা করছেন তিনি। তিনি বলেন, আমরা রাস্তা থেকে অনেক দূরে এসব মাল রেখে ব্যবসা করে আসছি। সব সময়ই বালি, ইট ও খোয়ায় পানি দিয়ে রাখি যাতে কেউ যেনো আপত্তি তুলতে না পারে। ফলে আমাদের ব্যবসা করার কারণে পথচারীদের যে ক্ষতি হয় বলে অভিযোগ করা হচ্ছে তা মোটেও সত্যি নয়।
অপর ব্যবসায়ী মেসার্স শানু এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাাধিকারী মো. আব্দুল জব্বার চাকলাদারের সাথে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
উপশহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. এজাজুল হক বলেন, এ বিষয়ে আমাদের কাছে কেউ কোনো অভিযোগ করেননি। কেউ যদি লিখিতভাবে অভিযোগ দেয় তাহলে অবশ্যই বিষয়টি নিয়ে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ বিষয়ে যশোর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, যশোর শিক্ষা বোর্ড সংলগ্ন মহাসড়কের ওই অংশে অবৈধ ব্যবসায়ীরা এ ধরনের ব্যবসা করে এমন অভিযোগ আমাদের কাছেও আছে। এর আগে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর যশোর আগমন উপলক্ষে সেখানে অভিযান পরিচালনা করে উচ্ছেদও করা হয়েছিলো। বিষয়টি যেহেতু আবার জনদুর্ভোগের কারণ হিসেবে দেখা দিয়েছে সে কারণে দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।