যশোরে বিএনপির আলোচনা অনুষ্ঠান :স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বকে ভূলুণ্ঠিত করেছে মুক্তিযুদ্ধের লেবাসধারী আওয়ামী সরকারঅনিন্দ্য ইসলাম অমিত

0

যশোরে মহান বিজয় দিবসের আলোচনা সভায় বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য ও কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, বিজয়ের ৪৯ বছর পরেও দেশের প্রকৃত বিজয় হয়নি। আজকে বিজয়ের দীর্ঘ বছর পরও দেশের গণতন্ত্র নির্বাসিত, মানবাধিকার পর্যদুস্ত, আইনের শাসন ভূলুন্ঠিত, বাক স্বাধীনতা সংকুচিত। এমন পরিস্থিতিতে মহান বিজয় দিবস উদযাপন করা মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি উপহাস ছাড়া আর কিছু হতে পারে না। সেদিন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ঘোষণায় রণাঙ্গনে বীরযোদ্ধারা একটি স্বাধীন ভূখন্ড অর্জন ও সামগ্রিক জাতির সত্ত্বার মুক্তির জন্য অস্ত্র কাঁধে নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। সেই ৩০ লাখ শহীদ আর ২ লাখ মা-বোনের ইজ্জত সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত এ দেশের স্বাধীনতা স্বার্বভৌমত্বকে ভূলুণ্ঠিত করছে মুক্তিযুদ্ধের লেবাসধারী আওয়ামী সরকার।
গতকাল বৃহস্পতিবার সদর উপজেলা বিএনপির আয়োজনে জেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আলোচনা সভায় তিনি আরও বলেন, আজকে স্বৈরাচার ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকার বড়ই মুুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হলো মুক্তিযোদ্ধার চেতনা। যে চেতনা দেখিয়েছিলেন আমাদের নেতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। সেদিন তিনি নিজের জীবন ও পরিবারের কথা না ভেবে মহান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে অস্ত্র কাঁধে নিয়ে রণাঙ্গনে পাকহানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। সেদিন তার লক্ষ্য ছিল আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে নিজের সম্মান ও অধিকার নিয়ে যেন আমরা বাঁচতে পারি। স্বাধীনতার মহান ঘোষক ও মুক্তিযোদ্ধাদের লক্ষ্য ও চেতনা অনেক আগেই ভূলুণ্ঠিত করেছে আজকের আওয়ামী সরকার। আজ কে দেশের স্বাধীনতার মহান ঘোষকের স্ত্রী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রীকে মিথ্যা সাজানো ও পাতানো মামলায় কারা অন্তরীণ থাকতে হয়। জনগণের স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে বিদেশি প্রভূদের স্বার্থকে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিলাসবহুল জীবন যাপনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অন্যদিকে সীমান্তে বিএসএফ সদস্যরা দেশের নিরীহ মানুষ পাখির মত গুলি করে হত্যা করছে। তারপরও সরকার নিশ্চুপ। এর উদ্দেশ্যে একটাই সেদিন এই বিদেশি প্রভূ ও প্রশাসনের কর্মকর্তা কর্মচারীরা এই অবৈধ সরকারকে জনগণের ভোট ডাকাতি করে ক্ষমতা গ্রহণের সুযোগ দিয়েছেন।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, স্বাধীনতার মহান ঘোষক ও মুক্তিযোদ্ধাদের উত্তরসুরী হিসেবে আমাদের শপথ নিতে হবে লড়াই সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এই স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদী, আওয়ামী সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে জনগণের সত্যিকারের বিজয় অর্জন করতে হবে।
এছাড়া আগেরদিন বুধবার (১৬ ডিসেম্বর) নগর বিএনপির আয়োজনে দলীয় কার্যালয়ে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এ আলোচনা অনুষ্ঠানেও প্রধান অতিথি ছিলেন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। দুটি আলোচনা অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক নার্গিস বেগম উপস্থিত ছিলেন। নগর বিএনপির আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র মারুফুল ইসলাম এবং পরিচালনা করেন যুগ্ম সম্পাদক খায়রুল বাশার শাহীন। অপরদিকে, সদর উপজেলা বিএনপির আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি নূর-উন-নবী এবং পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক কাজী আজম। দুটি আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন- জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাড. সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য গোলাম রেজা দুলু, প্রফেসর গোলাম মোস্তফা, আব্দুস সালাম আজাদ, আলহাজ্ব মিজানুর রহমান খান, নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুনীর আহমেদ সিদ্দিকী বাচ্চু, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাড. হাজী আনিছুর রহমান মুকুল, সদর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক মীর নূর ইমাম, সহসভাপতি অধ্যাপক আবদার হোসেন, রেফাজ উদ্দিন, দপ্তর সম্পাদক অধ্যাপক আসাদুজ্জামান শাহীন, কোষাধ্যক্ষ আব্দুর রহিম, প্রচার সম্পাদক রেজাউল ইসলাম কামাল, সাহিত্য ও প্রকাশনাবিষয়ক সম্পাদক আঞ্জুরুল হক খোকন, বিএনপি নেতা ফতেপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম, বিএনপি নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান, আয়ুব হোসেন, রবিউল ইসলাম রবি, আব্দুস সাত্তার, কাজী আজগর, দেলোয়ার হোসেন দিলু, আলতাফ হোসেন, বিএনপি নেতা, হাফিজুর রহমান, আব্দুল মান্নান, মোস্তফা মনোয়ারুল হ্যাপী, মশিয়ার রহমান বাবলু, মোস্তফা এনামুল বারী বাবলু, আবু তালেব, আব্দুল মাজিদ, নুরুজ্জামান খান, ডা: আব্দুল আজিজ, এসএম নুরুল হক, কাজী আব্দুল আজিজ, মোজাহার আলী নল্লা, জাহিদ হোসেন টিটো, জাহাঙ্গীর হোসেন, আনোয়ার হোসেন ইরান, একরাম হোসেন, রাসেল পারভেজ, মহিলা দল নেত্রী মনোয়ারা মোস্তফা, জেলা যুবদলের সভাপতি এম তমাল আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক কবির হোসেন বাবু, নগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফারুক হোসেন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সম্পাদক রাজু আহমেদ, ছাত্রদল নেতা আলমগীর হোসেন লিটন, মফিজুল ইসলাম ডাবলু, পিকুল হোসেন প্রমুখ।