যশোরে পৈতৃক ভিটা থেকে পরিবার উচ্ছেদের চেষ্টার অভিযোগ

0
ছবি: সংগৃহীত।

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর সদর উপজেলার চাঁনপাড়া গ্রামে পৈতৃক ভিটা থেকে একটি পরিবারকে উচ্ছেদের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখানো, হয়রানি ও মারধরেরও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এ ঘটনায় পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে জানিয়েছে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন চাঁনপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সুজন হোসেন। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, বসতবাড়ির সঙ্গে থাকা প্রায় দুই শতক জমি নিয়ে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি বি.এম. এলাম হোসেন রানাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে জমি দখলের চেষ্টা ও পরিবারের সদস্যদের হয়রানির অভিযোগ করেন তিনি।

সুজন হোসেন বলেন, একপর্যায়ে আইনগত ও পারিবারিকভাবে জমি ভাগবাটোয়ারা করে সংশ্লিষ্টদের প্রাপ্য সম্পত্তি বুঝিয়ে দেওয়া হলেও বিরোধের অবসান হয়নি। পরে পারিবারিকভাবে বিরোধ মীমাংসা করে বিধবা ও এতিমদের প্রাপ্য জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এরপরও জাফর ও তার রাস্তার পাশের বসতবাড়ির জমি দখলের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তার অভিযোগ, প্রায় ১০ লাখ টাকা মূল্যের জমি জোরপূর্বক মাত্র ১ লাখ ৫০ হাজার টাকায় বিক্রির দলিলে স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়া হয়। এতে বি.এম. এলাম হোসেন রানা সহযোগিতা করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি। পরে জমির ক্রেতা আবুল কালাম আজাদ সেখানে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের উদ্যোগ নেন।

বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ালে বিতর্কিত জমি নিয়ে ১৪৪ ধারায় মামলা এবং অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা নেওয়া হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। সুজনের অভিযোগ, আদালতের আদেশ থাকা সত্ত্বেও কয়েকজন সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের চেষ্টা করেন। এ সময় বিধবা হুমাইয়া, রকি ও বি.এম. এলাম হোসেন রানা তাদের ভয়ভীতি দেখান এবং মারধর করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এ ঘটনায় পরিবারটির সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলে জানান সুজন। সংবাদ সম্মেলন থেকে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জাফর আলী, মর্জিনা বেগম, রেজাউল ইসলাম, শিরিনা বেগম ও সেলিম রেজাসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।