যশোরে দুদকের মামলায় কাস্টমস কর্মকর্তার ৮ বছর সশ্রম কারাদণ্ড

0

 

 

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরে দুদকের দায়ের করা আয় বহিভর্ৃূত সম্পদ অর্জনের মামলায় কাস্টমসের সাবেক পরিদর্শক কে এম সিদ্দিকুর রহমানকে দুটি ধারায় ৮ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করেছেন আদালত। একই সাথে রায়ে আয় বহির্ভূত অর্জিত ২৭ লাখ ৬৬ হাজার ৭৪২ টাকার সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। রোববার স্পেশাল জজ (জেলা ও দায়রা জজ) আদালতের বিচারক মোহাম্মদ সামছুল হক এই রায় প্রদান করেন।
সাজাপ্রাপ্ত কে এম সিদ্দিকুর রহমান মাগুরার সত্যরানপুর গ্রামের মৃত পাচকড়ি কাজীর ছেলে। বর্তমানে তিনি যশোর শহরের ঘোপ সেন্ট্রাল রোডের (কবি গোলাম মোস্তফা রোড) বাসিন্দা। রায় ঘোষাণার পর তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
দুর্নীতি দমন কমিশনের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাড. মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, দুর্নীতি দমন আইন ১৯৫৭ এর ৪(২) ও ৫(১) ধারায় কে এম সিদ্দিকুর রহমানকে দোষী সাব্যস্ত করে তাকে আইনের ৪(২) ধারায় ৩ বছর সশ্রম কারাদণ্ড, ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং একই আইনের ৫(১) ধারায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় তাকে ৫ বছর সশ্রম কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা অর্থদন্ড অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন আদালত। উভয় সাজা একই সাথে চলবে।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, ১৯৯৮ সালের ৭ জুন দুদকের দেওয়া নোটিশের প্রেক্ষিতে কাস্টমস এক্সাইজ ভ্যাট যশোরের তৎকালীন পরিদর্শক কে এম সিদ্দিকুর রহমান তার অর্জিত সম্পদের বিবরণ জমা দেন। বিবরণীতে তিনি শহরের ঘোপ সেন্টাল রোডে ৯ দশমিক ৯৫ শতক জমির ওপর একটি দ্বিতল বাড়ি আছে বলে উল্লেখ করেছিলেন। যা তিনি ও তার স্ত্রী মিলে ১৩ লাখ টাকা ব্যয়ে এই বাড়িটি নির্মাণ করেন। তার দেয়া এই সম্পদ বিবরণীর প্রথমিক তদন্তে বাড়িটি নির্মাণে ৩৪ লাখ ৫৯ হাজার ৮৫৬ টাকা ব্যয় হয়েছে জানা যায়। তিনি আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের তথ্য গোপন করতে বাড়ির দাম নির্ধারণ করেছিলেন ১৩ লাখ টাকা। এই বাড়ির জমি থেকে স্ত্রী ও দুই ছেলেকে ১ দশমিক ১৯ শতক দান করেছেন বলেও মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন হিসাব বিবরনীতে। এ ঘটনায় ২০০২ সালের ৩১ অক্টোবর তৎকালীন দুদকের অফিসার আব্দুর রব আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনেনের অভিযোগে কে এম সিদ্দিুকর রহমানকে আসামি করে যশোর কোতয়ালি থানায় মামলা করেন। এ মামলার তদন্তে তার বিরুদ্ধে ২৭ লাখ ৬৬ হাজার ৭৪২ টাকার সম্পদ আয় বহির্ভূত অর্জনের প্রমাণ পাওয়া যায়। সম্পদের হিসাব বিবরনীতে এই তথ্য গোপন করেছেন কে এম সিদ্দিুকুর রহমান। দীর্ঘ তদন্ত শেষে আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ায় সিদ্দিকুর রহমানকে অভিযুক্ত করে ২০১১ সালের ৩১ অক্টোবর আদালতে চার্জশিট জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক সৈয়দ আহমেদ। মামলায় আসামি কে এম সিদ্দিকুর রহমানের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক তাকে উল্লিখিত সাজা প্রদান করেন।