সরকারের উন্নয়ন ও সংকট মোকাবিলার সাফল্য তুলে ধরে স্বেচ্ছাসেবক দলের লিফলেট বিতরণ

0
ছবি: লোকসমাজ।

স্টাফ রিপোর্টার ॥ গ্যাস, বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের তাৎক্ষণিক উদ্যোগ এবং নিত্যপণ্যের বাজার দর ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের তথ্যসংবলিত লিফলেট বিতরণ করেছে যশোর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল।

শনিবার শহরের এইচ এম এম রোড, কাপুড়িয়া পট্টিতে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মাঝে এই লিফলেট বিতরণ করেন নেতৃবৃন্দ।

লিফলেটে বলা হয়, বাংলাদেশে বিদ্যুৎ খাতের সংকট শুরু হয়েছে আওয়ামী লীগ শাসনামলে। তাদের ভুল সিদ্ধান্ত ও দুর্বল পরিকল্পনার খেসারত দিতে হচ্ছে জনগণকে। আওয়ামী লীগ সরকার গত দেড় দশকে একের পর এক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করেছে। তবে জ্বালানি কোথা থেকে আসবে এবং এর অর্থের জোগান কীভাবে হবে সেই বাস্তবতা বিবেচনা করে পরিকল্পনা নেওয়া হয়নি। ফলে প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। কিন্তু সক্ষমতা থাকলেও জ্বালানি ও অর্থের অভাবে পর্যাপ্ত উৎপাদন বাড়েনি।

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারও বিদ্যুতের এই সংকট সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। ২০২৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত দৈনিক প্রথম আলোর সংবাদে বলা হয়েছে, ২০০৯ সালের পর দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা পাঁচ গুণের বেশি বেড়েছে। কিন্তু প্রকৃত উৎপাদন বেড়েছে ৩ দশমিক ৬ গুণ।

অন্যদিকে বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভাড়া বা ক্যাপাসিটি চার্জ বেড়েছে প্রায় ১৬ গুণ। মূলত বিশেষ গোষ্ঠীকে সুবিধা দিতে আওয়ামী লীগের সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। জ্বালানি ও অর্থ সংকটের কথা বলতে গেলে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ব্যাংকসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান লুটপাট ও দুর্নীতির কথা বলতে হয়। সে সময় লুটপাট ও দুর্নীতির কারণে চরম আর্থিক সংকট তৈরি হয়।

এমন অবস্থায় সরকার জনবান্ধব উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। যার মধ্যে রয়েছে দেশের মোট গ্রাহকের শতকড়া ৬৪ ভাগ লাইফলাইন গ্রাহকদের ট্যারিফ না বাড়ানোর উদ্যোগ। ৮টি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চুক্তি পর্যালোচনা করে বিদ্যুতের মূল্য কমানো হয়েছে। আরও ৫১টি বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে উৎপাদিত বিদ্যুতের মূল্য হ্রাসের জন্য নেগোশিয়েশনের আওতায় আনা হচ্ছে।

সংকট মোকাবিলায় চুক্তি সমাপ্ত হওয়া কিছু বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে ক্যাপাসিটি চার্জ ছাড়াই শুধু উৎপাদিত বিদ্যুতের মূল্য পরিশোধের শর্তে পুনরায় উৎপাদনে আনা হয়েছে। ভর্তুকি কমাতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কোম্পানি লেভেলাইজড ট্যারিফ ৮ দশমিক ৪৪ টাকা করার উদ্যোগ। শিল্প বিদ্যুৎ খাতে গ্যাস সরবরাহের ভারসাম্য রক্ষার জন্য ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র সমূহ চালু রাখতে জরুরি ভিত্তিতে ৬,০০০ কোটি টাকার ফার্নেস অয়েল আমদানি করা হচ্ছে।

বিনিয়োগ বাড়াতে জাতীয় রুফটপ সোলার প্রোগ্রাম ২০২৫-এর প্রতিবন্ধকতা দূর করা। সৌর যন্ত্রপাতির আমদানি শুল্ক শতকড়া ৬৪ থেকে কমিয়ে ১ ভাগ করা হয়েছে। খাত-সংশ্লিষ্ট অগ্রিম আয়কর শতকড়া ১৫ ভাগ থেকে কমিয়ে ১ ভাগ করা হয়েছে। রুফটপ সোলারের উদ্বৃত্ত বিদ্যুতের জন্য সরকার ইউনিটপ্রতি ১০ দশমিক ৫০ টাকা প্রণোদনা চালু করা হয়েছে। বেসরকারি রপ্তানিমুখী শিল্পে নবায়নযোগ্য জ্বালানির মাধ্যমে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে মার্চেন্ট পাওয়ার পলিসির আওতায় বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের অনুমতি দেয়া হচ্ছে।

লিফলেট বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাড. সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোস্তফা আমীর ফয়সাল, সদস্য সচিব রাজিদুর রহমান সাগর, সিনিয়র যুগ্মআহ্বায়ক আলী হায়দার রানাসহ যশোর জেলা, নগর ও সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতৃবৃন্দ।