যশোরে গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরসহ দক্ষিণের জেলাগুলোতে তাপমাত্রার পারদ ক্রমশ উর্ধ্বমুখী। শুক্রবার চলতি মৌসুমে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে চুয়াডাঙ্গায় ৪১ দশমিক ২ ডিগ্রি। এর পরই ছিলো যশোরে অবস্থান ৩৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। চলতি মৌসুমে যশোরে এর আগেও একদিন ৩৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয় বলে আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে তাপমাত্রার পারদ আরও বাড়তে পারে। তখন তা ৪২ ডিগ্রির ওপরে উঠে তীব্র তাপপ্রবাহে রূপ নিতে পারে। তাদের ভাষ্যমতে তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তা মৃদু তাপপ্রবাহ বলা হয়। আর ৩৮ থেকে ৩৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়ান হলে তা মাঝারি তাপপ্রবাহ, ৪০ থেকে ৪১ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তীব্র এবং ৪২ এর ওপরে গেলে তা অতি তীব্র তাপপ্রবাহ বলে গণ্য হয়। সেই হিসেবে যশোর তীব্র তাপপ্রবাহ ছুঁই ছুঁই পর্যায়ে আছে।

এদিকে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় তীব্র গরম আর খরায় সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষ। বেলা বাড়ার সাথে সাথে প্রকৃতি চরম উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। যেকারণে খেটে-খাওয়া দিন মজুর শ্রমজীবী মানুষদের নাভিশ্বাস উঠছে। মানুষ সন্ধান করছে একটু ছায়া শীতল জায়গার।

শহরের দড়াটানা এলাকায় কথা হয় রিকশাচালক কবির হোসেনের সাথে। তিনি বলেন, গত দুই দিন অসহনীয় গরম পড়ছে। রোদের তীব্রতা অনেক। খুব কষ্ট হচ্ছে রিকশা চালাতে। দুপুর হলেই ক্লান্তিতে শরীর চলছে না। বিকেলের আগেই বাড়িতে ফিরে যেতে হচ্ছে। এমন গরম পড়লে রিকশা চালানো কষ্টসাধ্য হয়ে পড়বে বলে তিনি জানান।

গরমের তীব্রতা থেকে রক্ষা পেতে অনেকে ঠাণ্ডা পানি ও আইসক্রিম খেয়ে কিছুটা স্বস্তি নেওয়ার চেষ্টা করেন। যশোর শিক্ষাবোর্ড সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী রেদওয়ান আহমেদ বলে, ‘শুক্রবার ছুটির দিন হলেও আমাদেরকে নিয়মিত কোচিংয়ে যেতে হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে রাস্তায় সাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় মনে হয় আগুন বাতাস এসে গায়ে লাগছে। তাই একটু আইসক্রিম খেয়ে কিছু শান্তি পাওয়ার চেষ্টা করছি।’ ওই শিক্ষার্থী জানায়, তাদের কোচিংয়ে অনেকেই গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ায় আসছে না।

তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে বেশি বিড়ম্বনায় পড়ছে বয়স্ক ও শিশুরা। এই দুই শ্রেণির মানুষ দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়ছে। যে কারণে হাসপাতালগুলোতে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।