যশোরে করোনা সংক্রমণরোধে জনসচেতনতার উপর জোর সমন্বয় কমিটির সভায়

0

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ যশোরে সম্প্রতি একজন নারীর শরীরে নতুন করে করোনা শনাক্ত হওয়ার পর জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির মাসিক সভায় গভীর উদ্বেগ ও সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সাথে সভায় জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, ডেঙ্গু প্রতিরোধ এবং শহরের যানজট ও ফুটপাত দখলমুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। রোববার জেলা কালেক্টরেট ভবনের অমিত্রাক্ষর সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক আজাহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা জানান, যশোরে করোনা শনাক্ত হওয়া নারী বর্তমানে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি বলেন, করোনার এই নতুন ভ্যারিয়েন্ট সম্পর্কে স্বাস্থ্য বিভাগের তেমন ধারণা নেই, তবে এটি আগের মতো সংক্রমণাত্মক নাও হতে পারে।

সিভিল সার্জন আরও জানান, যশোরে প্রতি মাসে শত শত করোনা ভ্যাকসিন ও র‌্যাপিড কিট মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে। এর মধ্যে যশোর পৌরসভায় ২ হাজার ২০০ এবং সদরে ৪ হাজার ৬০০ ভ্যাকসিন অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে নিয়মিত ভ্যাকসিন এলেও সাধারণ মানুষের অনাগ্রহের কারণেই এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ডা. মাসুদ রানা কোভিড-১৯ এর নতুন ভ্যারিয়েন্ট মোকাবেলায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন। যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে আক্রান্ত রোগীদের জন্য ৮টি বেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে, এছাড়াও ৩৫ জন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি ওয়ার্ড ও ১টি আইসিইউ প্রস্তুত করা হচ্ছে। তিনি জানান, করোনা পরীক্ষার জন্য পর্যাপ্ত কিট থাকলেও জুলাই মাসে সেগুলোর মেয়াদ শেষ হবে, তাই কিট সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া অক্সিজেন সিলিন্ডার রিফিল করে প্রস্তুত রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

সিভিল সার্জন নতুন ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অপ্রমাণিত তথ্য থেকে সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “অনেকে না জেনে ভয়ংকর কথা ছড়িয়ে দিচ্ছে, এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।” তিনি বিশেষ করে বয়স্ক ও নানা রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিয়মিত মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহারের পরামর্শ দেন।

শার্শা উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী নাজিব হাসান বেনাপোল চেকপোস্টে বিশেষ নজরদারির প্রয়োজন উল্লেখ করে বলেন, প্রতিদিন ৬০০ থেকে ৭০০ ট্রাক যাতায়াত করায় ট্রাক চালকদের মাধ্যমেও ভাইরাস ছড়াতে পারে।

সভায় গত মাসে বেশ কয়েকটি খুনসহ আইন-শৃঙ্খলা অবনতির বিষয়ে আলোচনা হলে জেলা পুলিশের প্রতিনিধি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নূর-ই-আলম জানান, সকল ঘটনা শনাক্ত হয়েছে এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আসামি আটক হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নূর-ই-আলম সিদ্দিকী ফুটপাত দখলমুক্ত করার বিষয়ে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি পুরাতন খুলনা স্ট্যান্ডে (মণিহার এলাকায়) রাস্তার উপর যত্রতত্র বাস রাখার তীব্র সমালোচনা করেন। জেলা প্রশাসক বারবার সতর্ক করার পরও পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন এবং কেশবপুর যাওয়ার পথে তার নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন।

সভায় জানানো হয়, গত মাসে ডহরমশিহাটিতে বিএনপি নেতার খুনের ঘটনার পর সৃষ্ট অনাকাক্সিক্ষত ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর জেলা প্রশাসনের সহায়তায় নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে এবং সেখানে খাদ্য ও মানবিক সহায়তা অব্যাহত আছে। সড়ক দুর্ঘটনার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় সভায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এছাড়া, সকলের সহায়তায় ঈদ উল আযহা ভালোভাবে পালিত হওয়ায় সংশি্লষ্ট সকলকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানানো হয়।

কুরবানির পর পৌরসভার বর্জ্য অপসারণ হলেও যানজট ও ফুটপাত দখলমুক্ত করা যায়নি বলে আলোচনা হয়। পৌর প্রশাসক রফিকুল হাসান পৌর এলাকার সড়কের বাতি নষ্ট হওয়া এবং নতুন বাজেট না পেলে বাতি লাগানো যাচ্ছে না বলে সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে সকলকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান।

মাসিক উন্নয়ন সমন্বয় সভার সভাপতি জেলা প্রশাসক আজাহারুল ইসলাম জানান, এ বছর ঈদে জেলা পরিষদের অর্থায়নে জেলার ১৬৮০ জন দুস্থ মানুষকে মাংস, সেমাই, চিনি ও ঈদ সামগ্রী দেওয়া হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বাড়িতে বাড়িতে ঈদ সামগ্রী পাঠানো হয়েছে। তিনি শহরের যানজট নিরসনে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে এবং ফুটপাত দখলমুক্ত করার ওপর জোর দেন।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আছাদুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নাজিবুল আলম, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের জেলা প্রধান ডা. মো. রাশেদুল হক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আশরাফুল হক, প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন প্রমুখ।