যবিপ্রবি ছাত্রী হলে বহিরাগত তরুণীর অবস্থান, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

মুক্তা খাতুন নামের ওই তরুণী নিজেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী পরিচয় দিয়ে প্রায় দেড় বছর একটি ছাত্রী মেসে এবং পরবর্তীতে প্রায় দেড় মাস হলে অবস্থান করেন

0

যবিপ্রবি সংবাদদাতা, লোকসমাজ : যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) বীর প্রতীক তারামন বিবি ছাত্রী হলে এক বহিরাগত তরুণীর দীর্ঘ সময় অবস্থানকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, মুক্তা খাতুন নামের ওই তরুণী নিজেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী পরিচয় দিয়ে প্রায় দেড় বছর একটি ছাত্রী মেসে এবং পরবর্তীতে প্রায় দেড় মাস হলে অবস্থান করেন।

জানা যায়, ২০২৪ সাল থেকে মুক্তা খাতুন নিজেকে যবিপ্রবির ২০২৩–২৪ শিক্ষাবর্ষের মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী পরিচয় দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন আমবটতলা এলাকার ইসলামপুর রোডের একটি ছাত্রী মেসে বসবাস শুরু করেন। পরবর্তীতে গত ২ এপ্রিল তিনি বীর প্রতীক তারামন বিবি ছাত্রী হলের ৭১৫ নম্বর কক্ষে অন্য এক শিক্ষার্থীর সিটে অবস্থান নেন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অবস্থানকালে তিনি কখনো মার্কেটিং, আবার কখনো অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস (এআইএস) বিভাগের শিক্ষার্থী বলে পরিচয় দিতেন। বারবার পরিচয় ও বিভাগ পরিবর্তনের কারণে সহপাঠীদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়। পরে অনুসন্ধানে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো বিভাগেই মুক্তা খাতুন নামে কোনো শিক্ষার্থী নেই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তর ও মার্কেটিং বিভাগ থেকেও তার নামের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী জানান, প্রথম থেকেই মুক্তা নিজেকে নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় দিতেন এবং ক্লাস, প্রেজেন্টেশন ও পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা বলতেন। পরে জানা যায়, তিনি প্রকৃতপক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নন। ওই শিক্ষার্থী আরও অভিযোগ করেন, তার বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগও রয়েছে।

আরেক শিক্ষার্থী মিথিলা জানান, মুক্তা নিজেকে এআইএস বিভাগের শিক্ষার্থী বলে পরিচয় দিতেন এবং বিভাগের বই-খাতা ব্যবহার করতেন। তবে তাকে কখনো ক্লাসে দেখা যায়নি।

এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। তারা প্রশ্ন তুলেছেন—কীভাবে একজন বহিরাগত দীর্ঘ সময় ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলে অবস্থান করতে পারলেন।

অভিযুক্ত মুক্তা খাতুনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার মামা ফারুক হোসাইন বলেন, মুক্তা একসময় যবিপ্রবিতে ভর্তি হয়েছিল। বর্তমানে তার ছাত্রত্ব কেন নেই, তা তারা খতিয়ে দেখছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. হামিদুর রহমান বলেন, “শিক্ষার্থী না হয়েও হলে অবস্থান করা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি।” প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তিনি এক শিক্ষার্থীর অতিথি পরিচয়ে হলে প্রবেশ করে দীর্ঘদিন অবস্থান করেন। বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে বীর প্রতীক তারামন বিবি ছাত্রী হলের প্রভোস্ট ড. মোসা. আফরোজা খাতুন বলেন, তিনি পরে বিস্তারিত মন্তব্য করবেন।