মুজিব সড়কে বিদ্যুতের খুঁটিতে আগুন, অল্পের জন্য রক্ষা

0
ছবি: সংগৃহীত।

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর শহরের ব্যস্ততম মুজিব সড়কে গভীর রাতে বিদ্যুতের মেইন লাইনের একটি খুঁটিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। রোববার দিবাগত রাত ৩টার দিকে হঠাৎ খুঁটিতে আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়লে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন আশপাশের বাসিন্দারা।

তবে স্থানীয়দের সতর্কতা ও ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পেয়েছে এলাকাটি।

স্থানীয় সূত্র জানায়, রাত তখন প্রায় ৩টা। মুজিব সড়কের আশপাশের অধিকাংশ মানুষ গভীর ঘুমে। এর মধ্যেই একটি বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে আগুনের ফুলকি বের হতে দেখেন স্থানীয়রা। কয়েক মুহূর্তের মধ্যে সেই ফুলকি আগুনে রূপ নেয়। খুঁটির ওপর থাকা বৈদ্যুতিক তার ও বিভিন্ন সরঞ্জামে আগুন ছড়িয়ে পড়তে থাকে।

আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকায় সড়কের আশপাশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বৈদ্যুতিক তারে আগুন জ্বলতে থাকায় যেকোনো সময় বিস্ফোরণ বা আগুন আশপাশের ভবন ও দোকানে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত জাতীয় জরুরি সেবা, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। বৈদ্যুতিক লাইনে আগুন হওয়ায় বিদ্যুৎ বিভাগের সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

শাহনেওয়াজ সৌখিন নামে একজন ব্যবসায়ী বলেন, আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারত। মুজিব সড়কটি যশোর শহরের গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত সড়ক হওয়ায় আশপাশে রয়েছে বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, দোকানপাট ও ভবন। আগুন সেগুলোতে ছড়িয়ে পড়লে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা ছিল।

তিনি বলেন, ‘হঠাৎ দেখি বৈদ্যুতিক খুঁটিতে আগুন জ্বলছে। আগুনের শিখা অনেক উঁচুতে উঠছিল। প্রথমে আমরা খুব ভয় পেয়ে যাই। দ্রুত ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়। তারা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনায় বড় বিপদ হয়নি।’

ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত পদক্ষেপের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের তাৎক্ষণিক সতর্কতাকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। আগুন ছড়িয়ে পড়ার আগেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে খবর দেওয়ায় পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে বলে তারা জানান।

প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক ত্রুটির কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।