যবিপ্রবির শিক্ষাসফরে ছাত্রীকে যৌন হয়রনির অভিযোগ তদন্তে পাঁচ সদস্যের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি

0
ছবি: সংগৃহীত।

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) পরিবেশবিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (ইএসটি) বিভাগের শিক্ষাসফরে এক শিক্ষক কর্তৃক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

একই সঙ্গে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগও উঠেছে। তবে এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী গণমাধ্যমে কথা বলতে রাজি হননি।

জানা গেছে, গত ২২ এপ্রিল ইএসটি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা শিক্ষা সফরে কক্সবাজার যান। সফর চলাকালে সমুদ্র সৈকতে বিভাগের লেকচারার মো. মনিরুল ইসলাম এক ছাত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর আচরণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে ওই শিক্ষার্থী বিষয়টি সহপাঠীদের জানালে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে বিভাগের ভেতরে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হলেও পরবর্তীতে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন কয়েকজন শিক্ষার্থী।

শনিবার (৯ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কাজী মো. জালাল উদ্দীন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শিক্ষাসফরে ইএসটি বিভাগের লেকচারার মো. মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা ছাত্রী হয়রানির অভিযোগ তদন্তে পাঁচ সদস্যের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটিতে ডিনস কমিটির আহ্বায়ককে সভাপতি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। এছাড়া সদস্য হিসেবে রয়েছেন ফলিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন, বীর প্রতীক তারামন বিবি হলের প্রভোস্ট এবং ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. ফারহানা ইয়াসমিন।

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে ইএসটি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. গোপাল চন্দ্র ঘোষ বলেন, এ বিষয়ে আমরা এখন কোনো মন্তব্য করছি না।

ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির সভাপতি ও ডিনস কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. ইঞ্জিনিয়ার ইমরান খান বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি কী, সেটি জানার জন্যই ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে কিছু বলা সম্ভব নয়।

অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধ বিষয়ক কম্পেলেন্ট কমিটি এ ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ পেয়েছে কি না জানতে চাইলে কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. শিরিন নিগার বলেন, ইএসটি বিভাগের এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত আমরা কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি।

অভিযুক্ত শিক্ষক মো. মনিরুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার না করলেও এ বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে চাননি। তিনি বলেন, ‘যেহেতু ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠন হয়েছে, তাই এ বিষয়ে গণমাধ্যমে এখন কথা না বলাই শ্রেয়। কমিটি যদি আমাকে ডাকে, পুরো বক্তব্য সেখানে তুলে ধরবো।’