মৌসুমের শুরুতেই দুর্যোগের ধাক্কায় দুবলার চরে শুঁটকি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা

0
সুন্দরবনের দুবলার আলোর কোল চরে জড়ো হওয়া জেলেদের নৌকার বহর, ছবি: লোকসমাজ।

মোংলা (বাগেরহাট) সংবাদদাতা ॥ বঙ্গোপসাগরের সুন্দরবন উপকূলে মাছ আহরণ ও শুঁটকি তৈরির মৌসুম শুরু হতে না হতেই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কবলে পড়েছেন জেলেরা। লঘুচাপের প্রভাবে বৃষ্টি ও উত্তাল সাগরে ব্যাহত হচ্ছে মাছ আহরণ ও শুঁটকি উৎপাদনের কার্যক্রম।

মৌসুমের প্রথম দিন শুক্রবারই দুবলার চরসহ আশপাশের এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ায় কয়েক হাজার জেলে ও মৎস্যজীবী পড়েছেন চরম দুর্ভোগে। মাছ ধরতে সাগরে যেতে না পারা, নতুন ঘর ও শুঁটকি তৈরির স্থাপনা নির্মাণে বাধা ও রোদের অভাবে মাছ শুকাতে না পারায় অনিশ্চয়তায় পড়েছে তাদের মৌসুমি জীবিকা।

বৈরী আবহাওয়ার কারণে জেলেদের সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি সুন্দরবন বিভাগের রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়েও শঙ্কা দেখা দিয়েছে। মহাজনদের কাছ থেকে দাদন ও ঋণ নিয়ে মাছ আহরণ ও শুঁটকি তৈরির উদ্দেশ্যে দুবলার চরে আসা জেলেরা এখন ঋণ পরিশোধ ও সংসারের খরচ জোগানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

জেলেরা জানান, প্রতিবছর শুঁটকি মৌসুমকে কেন্দ্র করে সুন্দরবনের দুবলার চর, আলোরকোল, মেহেরআলীসহ বিভিন্ন চরে দেশের বিভিন্ন উপকূলীয় অঞ্চল থেকে হাজার হাজার জেলে ও মৎস্যজীবী সমবেত হন। অক্টোবরের শেষ দিক থেকে মার্চ পর্যন্ত চলে তাদের মাছ আহরণ ও শুঁটকি তৈরির কর্মযজ্ঞ। এ জন্যে মৌসুম শুরুর সময়ে তারা প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে চরে পৌঁছে অস্থায়ী বসতঘর, মাছ শুকানোর মাচা ও অন্যান্য স্থাপনা তৈরি করেন। কিন্তু এবার শুরুতেই বৈরী আবহাওয়ায় তাদের সব প্রস্তুতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

শুক্রবার মৌসুমের প্রথম দিন দুবলার চর এলাকায় তুমুল বৃষ্টিপাত হয়। বৃহস্পতিবার রাত থেকেই শুরু হওয়া ভারী বৃষ্টি শুক্রবারও অব্যাহত থাকায় জেলেদের নতুন ঘর নির্মাণ ও শুঁটকি তৈরির অবকাঠামো প্রস্তুতের কাজ ব্যাহত হয়। একই সঙ্গে উত্তাল সাগরের কারণে অনেক জেলে মাছ ধরতে গভীর সমুদ্রে যেতে পারেননি। কেউ কেউ উপকূলের কাছাকাছি মাছ ধরলেও রোদের অভাবে সেই মাছ শুকাতে পারেননি। ফলে মৌসুমের শুরুতেই মাছ আহরণ ও শুঁটকি উৎপাদনের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটেছে।

দুবলার চর জেলে পল্লীর সিও (ইনচার্জ) ফরেস্ট রেঞ্জার খলিলুর রহমান বলেন, বৃহস্পতিবার রাত থেকে দুবলার চর এলাকায় টানা ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এ কারণে মৌসুমের শুরুতে এখানে আসা জেলেরা মাছ আহরণ ও বসবাসের জন্যে নতুন ঘর তৈরিতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছেন।

জেলেদের জন্যে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে ঋণের বোঝার কারণে। মৌসুমে মাছ আহরণ ও শুঁটকি তৈরির খরচ জোগাতে অনেক জেলেই মহাজনদের কাছ থেকে দাদন ও ধারদেনা নিয়ে দুবলার চরে এসেছেন।

তাদের প্রত্যাশা ছিল, মৌসুমের শুরু থেকেই সাগরে মাছ ধরে শুঁটকি তৈরি করে বিক্রি করবেন ও সেই আয় থেকে ঋণ পরিশোধ করবেন। কিন্তু বৈরী আবহাওয়ায় মাছ ধরতে যেতে না পারা ও মাছ শুকানোর কাজ বন্ধ থাকায় তাদের বিনিয়োগ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে না এলে আয় কমে যাওয়ার পাশাপাশি ঋণ পরিশোধেও সংকটে পড়তে পারেন তারা।

অন্যদিকে শুঁটকি মৌসুম ঘিরে বন বিভাগ এবারের মৌসুমে ৮ কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা আদায়ের টার্গেট নিয়েছেন। জেলেদের মাছ আহরণ ও শুঁটকি উৎপাদন কমে গেলে বন বিভাগের রাজস্ব আদায়েও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। মৌসুমের শুরুতেই বৃষ্টি ও উত্তাল সাগরের কারণে কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় এবার রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।