মোরেলগঞ্জে মেয়ে হত্যার বিচার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন

0

মোরেলগঞ্জ সংবাদদাতা॥ বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে মেয়ে হত্যার বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক ভুক্তভোগী পরিবার। সোমবার বিকেলে মোরেলগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবে গণমাধ্যম কর্মীদের সামনে অশ্রুসিক্ত নয়নে এক অসহায় পিতা-মা তাদের মেয়ে বিথি আক্তার ( ২২) হত্যার বিচার দাবি করেন। ভুক্তভোগী পরিবারের ভাষ্যমতে, বিথি আক্তার ২০১৮ সালে এসএসসি পাশ করে দৈব্যজ্ঞহাটি সেলিমাবাদ কলেজে ভর্তি হওয়ার পর চিংড়াখালী ইউনিয়নের কাচিকাটা গ্রামের শহিদুল শেখের ছেলে আবির শেখের( ২৫)সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কলেজে ভর্তি হওয়ার ৬ মাস পর থেকে ছেলে এবং ছেলের পরিবার বিভিন্নভাবে বিয়ের প্রস্তাব দিতে থাকে। এক পর্যায়ে ছেলের পিতা শহিদুল ইসলাম আমার গ্রামের লোকজন নিয়ে আমার স্বামীর
উপস্থিতিতে আমার বাড়িতে এসে মেয়ে বিয়ে দেবার জন্যে চাপ দিতে থাকেন। আবিরের পরিবার বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করতে থাকলে আমরা মেয়ের পরীক্ষা শেষে বিয়ে দিতে সম্মত হই। পরবর্তীতে গত ৮ মার্চ ২০২১ সালে উভয় পরিবারের আত্মীয় স্বজনের উপস্থিতিতে কাবিন রেজিস্ট্রির মাধ্যমে বিয়ে হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বিয়ের এক মাস পরে আনুষ্ঠানিকভাবে মেয়েকে উঠিয়ে দেই। বিয়ের পর থেকে আবিরের মা আম্বিয়া বেগম আমার মেয়ের ওপর বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বিষয়ে যৌতুক না পেয়ে দোষারোপ করে মানষিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করে। নির্যাতন এক পর্যায়ে মারাত্মক হয়ে পড়লে ছেলে আমার মেয়েকে বগুড়ায় তার কর্মস্থলে নিয়ে যায় । বগুড়ায় কিছুদিন থাকার পরে আবির পুনরায় তার স্ত্রী বিথিকে তার মায়ের কাছে রেখে আবার কর্মস্থলে চলে যায়। ভুক্তভোগী মায়ের দাবি তার মেয়ের মোবাইল ফোন ছেলে তার নিজের কাছেই রাখত। আমার মেয়ে আমার সাথে যোগাযোগ করতে পারতো না। বিয়ের পর থেকে তাদের দাম্পত্য জীবনে ঝামেলা লেগেই থাকতো। এক পর্যায়ে গত ১৬ ডিসেম্বর শুক্রবার রাত অনুমান সাড়ে ৯টায় ছেলের মামি আমাকে ফোন দিয়ে বগুড়ার খবর জানতে চান। কিন্তু আমি কিছুই জানি না বলে জানালে তিনি আমাকে জানান, ‘আপনার মেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আপনি তাড়াতাড়ি চলে আসেন’। তারপর আমি ছেলেকে ফোন দিলে সে ফোন রিসিভ করে কেটে দেয়। আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে র‌্যাব ও থানা পুলিশের সহযোগিতায় মেয়ের লাশ বেওয়ারিশ হিসেবে ফেলে রাখা অবস্থায় একটি রুমের ভেতর থেকে উদ্ধার করি। এ সময়ে লাশের সমস্ত কাপড়চোপড় রক্তে ভেজা দেখতে পাই। মেয়ের বাম কানসহ গালের ওপর আঘাতের কারণে কালো দাগ দেখতে পাই। এছাড়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতে চিহ্ন দেখতে পাই। তিনি তার মেয়ে হত্যার বিচার দাবি করেন। এ ব্যাপারে বিথির শ্বশুর শহিদুল ইসলাম বলেন, আমি ঘটনার কথা শুনে বগুড়ায় যাই। গিয়ে শুনি বিথির লাশ নিয়ে বাড়ি চলে গেছে। পরে আমিও চলে আসি। আমার ছেলে আবিরের সাথে আমার কোন যোগাযোগ নেই। এ সম্পর্কে আমি কিছুই জানিনা।