মোংলায় আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোর চক্রের ৬ জন গ্রেফতার, উদ্ধার ৪ চোরাই মোটরসাইকেল

0
মোংলায় আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোর চক্রের ৬ সদস্য গ্রেফতার

মোংলা (বাগেরহাট) সংবাদদাতা : বাগেরহাটের মোংলায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোর চক্রের ৬ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৪টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুর রহমান জানান, মোংলা বন্দরের প্রাণিসম্পদ কোয়ারান্টাইন স্টেশনের অফিস সহকারী শেখ আল-আমিন এবং একই এলাকার বাসিন্দা মার্কিন জোয়াদ্দারের দুটি মোটরসাইকেল সম্প্রতি দিগরাজ বাজারের শাহিন হোটেলের সামনে থেকে চুরি হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা থানায় অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে।

তদন্ত ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ চুরির সঙ্গে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ চক্রকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। চক্রের অন্যতম সদস্য রনি হাওলাদার চুরি হওয়া মোটরসাইকেল দুটি বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে দেয় বলে জানা যায়।

পরে রনি হাওলাদারকে গ্রেফতার করে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার দিবাগত গভীর রাতে মোংলা ও রামপাল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় একযোগে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে চক্রের আরও পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থান থেকে ৪টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতাররা হলেন রামপাল উপজেলার গৌরম্ভা এলাকার ইমরান হাওলাদারের ছেলে রনি হাওলাদার, রনসেন এলাকার আবু সাঈদ শেখের ছেলে মেহেদী হাসান, মোংলা উপজেলার দিগরাজ এলাকার মকবুল হোসেনের ছেলে সজীব আহমেদ জয়, ব্যাংক রোড এলাকার আব্দুল আলিমের ছেলে সাজেদুল ইসলাম, বুড়িরডাঙ্গা এলাকার নজরুল শেখের ছেলে নাজমুল শেখ এবং ফকিরহাট উপজেলার কাঠালতলা এলাকার তানভীর হোসেন শাওন।

পুলিশ জানায়, তারা দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে বিভিন্ন এলাকা থেকে মোটরসাইকেল চুরি করে কম দামে বিক্রি করে আসছিল। তাদের বিরুদ্ধে আরও চুরির ঘটনার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এ ঘটনায় গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে মোংলা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। বুধবার তাদের বাগেরহাট আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মোংলা থানার ওসি মো. আতিকুর রহমান বলেন, মোটরসাইকেল চুরি প্রতিরোধে পুলিশের নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি চুরি হওয়া যানবাহন উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত থাকবে।